আগামী ১ ডিসেম্বর কক্সবাজার রুটে প্রথম বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। শুরুর দিনগুলোতে ঢাকা-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে একটি করে আন্তঃনগর ট্রেন এবং প্রথম সপ্তাহেই চট্টগ্রাম থেকে আরো একটি ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চট্টগ্রাম-দোহাজারী লোকাল ট্রেন সার্ভিস পুনরায় চালু করা হবে।
শনিবার (১১ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে নবনির্মিত রেলপথ প্রকল্পটি উদ্বোধন কালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে একটি করে ট্রেন চালুর নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ না হলেও যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেয়া হয় রেলওয়ে। দোহাজারী-কক্সবাজার ১০০ কিলোমিটার রেলপথ প্রকল্পটির কাজের আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের জুনে।
রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের তথ্যমতে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত দুই জোড়া ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ না হওয়ায় আপাতত ঢাকা থেকে প্রতিদিন এক জোড়া ও চট্টগ্রাম থেকে এক জোড়া ট্রেন চালানো হবে। রেক বা কোচ ও ইঞ্জিন পাওয়া সাপেক্ষে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে আরো একজোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালানো হবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ইতোমধ্যেই ঢাকা-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ভাড়া চূড়ান্ত করেছে রেলওয়ে।
ঢাকা-কক্সবাজার আন্তঃনগরে কোচ থাকবে ১৮টি। আসন থাকবে দিনের বেলায় ৮২৪টি, রাতে ৭৭৯টি। অন্তত ২০ শতাংশ আসন চট্টগ্রামের যাত্রীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। ঢাকা থেকে শোভন চেয়ারের টিকিট ৫০০ টাকা, এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা) ৯৬১ টাকা, প্রথম শ্রেণীর চেয়ার ৭৭১ টাকা, প্রথম শ্রেণীর বার্থ/সিট ১১৫০ টাকা এবং এসি বার্থের টিকিট ১ হাজার ৭২৫ টাকা।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের আন্তঃনগর ট্রেনটি ষোলশহর, জালানীহাট, পটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, চকরিয়া, ডুলাহাজরা ও রামু স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে কক্সবাজারে যাত্রী পরিবহন করবে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনটির রেকে মোট কোচ সংখ্যা হবে ১২টি। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীরা সকালে গিয়ে রাতেই চট্টগ্রামে ফিরতে পারবেন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনে শোভন চেয়ারের টিকিট ২০৫ টাকা, প্রথম শ্রেণীর চেয়ার/সিট ৩১১ টাকা, প্রথম শ্রেণীর বার্থ ও এসি সিট ৪৬৬ টাকা, এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা) ৩৮৬ টাকা এবং এসি বার্থ টিকিট ৬৯৬ টাকা।
ঢাকার ট্রেনটি (৮১৪) রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারে পৌঁছবে। ফিরতি পথে বেলা ১টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে রাত ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছবে। সময় লাগবে ৮ ঘণ্টা ১০ মিনিট। ট্রেনটি শুধু চট্টগ্রাম স্টেশনে ৩০ মিনিটের যাত্রাবিরতি দেবে। অন্যদিকে ৮২৪ নম্বর ট্রেন কক্সবাজার থেকে সকাল ৭টায় ছেড়ে বেলা ১০টা ৫ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছবে। সময় লাগবে ৩ ঘণ্টা ৫ মিনিট। অন্য ট্রেনটি (৮২১) সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে ১০টা ২০ মিনিটে কক্সবাজারে পৌঁছবে। সময় লাগবে ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটের বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হবে ঢাকা থেকে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের প্রথম ট্রেনটি চলাচল করবে কক্সবাজার থেকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের চট্টলা এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনের অবমুক্ত রেক দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের আন্তঃনগরগুলো চালানো হবে। ঢাকা রুটের ট্রেনটি চালানো হবে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানীকৃত নতুন কোচ দিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী কোচের রেক দিয়েই ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ট্রেন চালবে।
২৫ নভেম্বরের মধ্যে ২৪ জন লোকোমাস্টারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য রেল ভবনে প্রস্তাব পাঠিয়েছে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগ। মূলত লোকোমাস্টার সংকটের কারণে অবসরে যাওয়া লোকোমাস্টারদের কক্সবাজারে ট্রেন চালানোর জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে চাইছে রেলওয়ে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. শহিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজারে ট্রেন চালাতে আমরা প্রস্তুত। প্রথম ট্রেনটি চলাচল শুরু করবে ঢাকা থেকে। দ্বিতীয় বাণিজ্যিক ট্রেনটি চলবে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম। কক্সবাজারকে ঘিরে অন্তত ছয় জোড়া ট্রেনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হলেও শুরুতে দুই কিংবা তিন জোড়া ট্রেন চালানো হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি ট্রেনগুলো চালানো হবে। এক্ষেত্রে ইঞ্জিন ও জনবল পাওয়া সাপেক্ষে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর কিংবা ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের আরো কয়েকটি ট্রেনের গন্তব্য স্টেশন কক্সবাজার পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
এরই মধ্যেই টিকিট বিক্রির জন্য সহজ ডটকমের মাধ্যমে রেলওয়ের ই-টিকেটিং সার্ভারে কক্সবাজার ও বিভিন্ন নতুন স্টেশনের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। রেল ভবনের নির্দেশনা পেলে অন্তত ১১ দিন আগেই কক্সবাজারের বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে।





