স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউজেও কমেছে আমদানি বাণিজ্য ফলে কমেছে রাজস্ব আদায়েও।

গেছে চার মাসেই ৩২৮ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে এ বন্দরে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮০ কোটি টাকা কম হয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ ছাড়াও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এবং কাস্টম কর্তৃপক্ষের হয়রানি এ বন্দরে আমদানি কমার কারণ। কয়েক বছর ধরেই এ অবস্থা চললেও কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়নি।

কাস্টম কর্তৃপক্ষ বর্তমানে অতীতের তুলনায় কড়াকড়ি করছে অনেক বেশি। নিত্যনতুন হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া কর্তৃপক্ষের মনমতো এইচএস কোড (পণ্য শনাক্তকরণ ও ট্যাক্স নির্ধারণ কোড) পরিবর্তনের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা অন্য বন্দরে ঝুঁকছেন। কতিপয় কর্মকর্তার অনিয়ম ও হয়রানির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সরকারের রাজস্ব আয় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। লোকসান গুনছেন ব্যবসায়ীরা।

কাস্টম কর্তৃপক্ষ বলছে, শুল্ক ফাঁকি রোধে কড়াকড়ি আরোপ করায় রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধাগুলো বাড়াতে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

আমদানিকারকদের অভিযোগ, ডকুমেন্ট ঠিক মতো সাবমিট করলেও এইচএস কোড ও আমদানি মূল্য নিয়ে প্রতিনিয়ত জটিলতা তৈরি করছে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি মাছ ও ফলমূলের মতো উচ্চ পচনশীল পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। আগে আপেল আমদানিতে শুল্ক ছিল ৬১.৬৫ টাকা, যা চলতি অর্থবছর দাঁড়িয়েছে ৮৯.২২ টাকা। তাদের মতে, এসব কারণে আমদানি কমেছে।

চলতি অর্থবছর এ কাস্টম হাউজে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে ছয় হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। প্রতি মাসে গড় লক্ষ্যমাত্রা ৫১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে (জুলাই-অক্টোবর) চার মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে এক হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম চারমাসে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩২৮ কোটি টাকা

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ও বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান বলেন, রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বড় ধসের কারণ হলো কাস্টম হাউজে অতিরিক্ত হয়রানি। কাস্টম হাউজে ডকুমেন্ট সাবমিট করার পর নিচের অফিসারদের অতিরিক্ত হয়রানির কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ঘোষণা ঠিক থাকলেও পণ্যের এইচএস কোড, ভ্যালু ও টেস্ট করা নিয়ে জটিলতায় পড়তে হয়। মনে হয় আমদানিকারকরা আমদানি করে যেন দায়ে পড়েছেন। বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ঘাটতির এটাই মূল কারণ।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার মো. শাফায়েত হোসেন বলেন, রাজস্ব আদায়ে মূলত ঘাটতি হয়েছে উচ্চশুল্কের পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায়। বিশেষ করে মোটরগাড়ি ও মোটর পার্টস থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। আপেল আমদানিতে ২৪ কোটি ও ফেব্রিকস আমদানিতে ২১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। মোট ৩২৮ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে। ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধা বাড়াতে কাস্টম কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

জানা যায়, একসময় মোটর পার্টস, ফেব্রিকস, আয়রন, স্টিল, মোটরগাড়ি, ফল আমদানিতে মুখর থাকতো বেনাপোল স্থলবন্দর। কিন্তু এখন এসব আমদানিকারকের আনাগোনা নেই এ বন্দরে। ফলে কমেছে রাজস্ব আয়ও।