সিরাজুর রহমান, সিংড়া, নাটোরঃ চলতি ২০২২ সালের ১৮ই ডিসেম্বর রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত রেমিট্যান্স আয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, গত নভেম্বর মাস অপেক্ষা চলতি ডিসেম্বর মাসে বেশি পরিমাণে রেমিট্যান্স দেশে আসে। যা কিনা চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ১৬ দিনে আমাদের সম্মানিত প্রবাসী কর্মীরা দেশে ৯৪১ মিলিয়ন ডলার বা ০.৯৪১ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। যেখানে গত নভেম্বর মাসে মোট ১.৫৯৫ বিলিয়ন ডলার এবং গত অক্টোবর মাসে দেশে বৈধ পথে রেমিটান্স আসে ১.৫২৫ বিলিয়ন ডলার।
২০২২ সালে বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে নেতিবাচক আকাঙ্খার তথ্য উপাত্ত প্রকাশ করে। তবে বাস্তবে আবারো তা ভূল প্রমান করে গত নভেম্বর মাস থেকেই বাংলাদেশে রেমিটান্স প্রবাহ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। চলতি ২০২২ সালের নভেম্বর মাস শেষে আমাদের সম্মানিত প্রবাসী কর্মীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ১.৫৯৫ বিলিয়ন ডলার।
যেখানে বাংলাদেশের ২০২০ সালে রেমিট্যান্স আয় আসে ২১.৭৫ বিলিয়ন ডলার। তাছাড়া চলতি ২০২২ সালের প্রথম ১১ মাসে বৈধ পথে রেমিট্যান্স দেশে আসে ১৯.৫৯ বিলিয়ন ডলার। তাছাড়া গত ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট ২১.০৩২ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স হিসেবে আয় করে বাংলাদেশ।
আর প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে বিগত তিন দশক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তবে এটা ঠিক যে, দেশে অবৈধ অর্থিক সিন্ডিকেট বা হুন্ডিকে নিরুৎসাহিত এবং প্রতিরোধ করা গেলে আমাদের দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রেমিট্যান্স আয় করা সম্ভব হতো।
এদিকে গ্লোবাল ইকোনোমী’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বৈশ্বিক রেমিট্যান্স আয় সংক্রান্ত তথ্যমতে, ২০২১ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আয় অর্জনকারী দেশের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ভারতের নাম। ২০২১ সালে ভারত রেমিট্যান্স বাবদ মোট ৮২.৯৮ বিলিয়ন ডলার আয় করে। তাছাড়া সর্বোচ্চ ৫১.৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আয় করে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ম্যাক্সিকো। ৩১.০৮ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আয় করে তৃতীয় স্থানে পাকিস্তান এবং ২৭.৮৯ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ স্থানে ছিল ফিলিপাইন্স।
এই ইকনোমিক থিংক ট্যাংকটি’র দেয়া তথ্যমতে, ২০২১ সালে রেমিট্যান্স আয়ের দিক দিয়ে ৫ম স্থানে থেকে বাংলাদেশ আয় করে ২২.২ বিলিয়ন ডলার, ৬ষ্ঠ স্থানে গুয়েতেমালা ১৫.২৬ বিলিয়ন ডলার, ৭ম স্থানে মরক্কো ১০.৭১ বিলিয়ন ডলার, ৮ম স্থানে ডমিনিকান রিপাবলিক ১০.৪ বিলিয়ন ডলার, ৯ম স্থানে ইন্দোনেশিয়া ৯.১৭ বিলিয়ন ডলার এবং দশম স্থানে থেকে ইউরো এরিয়া জোনের দেশগুলো সর্বোচ্চ ৮.৮৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স হিসেবে আয় করে।
দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ পাকিস্তান ২০২২ সালের প্রথম ১১ মাসে রেমিট্যান্স বাবদ মোট আয় করে ২৭.৪৮ বিলিয়ন ডলার। তাছাড়া স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের দেয়া তথ্যমতে, দেশটি ২০২২ অর্থবছরে মোট ৩১.২৮ এবং ২০২১ অর্থবছরে মোট ২৯.৪৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বাবদ দেশে পাঠায় দেশটির প্রবাসী কর্মীরা। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে ২০২২ অর্থবছরে একক কোন দেশ হিসেবে রেমিট্যান্স খাতে ভারত সর্বোচ্চ ৮৯ বিলিয়ন ডলার আয় করে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণা মতে ভারতের রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে ১০০ বিলিয়ন ডলারের সীমাকে অতিক্রম করতে পারে। এদিকে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলংকা’র দেয়া তথ্যমতে, ২০২২ সালের প্রথম ১০ মাসে শ্রীলংকা ২.৯৩ বিলিয়ন ডলার আয় করে রেমিট্যান্স খাত থেকে এবং ২০২১ সালে তা ছিল কিনা ৫.৪৯ বিলিয়ন ডলার। তবে পরিশেষে বলতে হয় যে, উন্নয়নশীল দেশের রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয়ের মূল উৎস কিন্তু সেই আবার আমেরিকা, পশ্চিমা বিশ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো।







