সিরাজুর রহমান: রয়টার্স নিউজ এজেন্সির দেয়া তথ্যমতে, আগামী মার্চ মাস থেকে রাশিয়া তার মোট জ্বালানি তেল উৎপাদনের ৫% পর্যন্ত কমানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক। তিনি মিডিয়ায় জানান যে, রাশিয়া আপাতত জ্বালানি তেলের উৎপাদন প্রতিদিন ৫,০০,০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমাতে যাচ্ছে। আর রাশিয়ার জ্বালানি তেল উতপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্তে আবারো অস্থির হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক ক্রুড ওয়েল মার্কেট। রাশিয়ার এ ঘোষণার পর পরই অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের মূল্য ২.৫% বৃদ্ধি পেয়ে ৮৬.৬ ডলারে পৌঁছে যায়।
আর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াতে তেল উৎপাদনকারী দেশগলো বরাবরই ব্যাপকভাবে লাভবান হলেও বিশ্বের অধিকাংশ স্বল্প আয়ের দেশের জন্য বড় ধরণের সমস্যার সৃষ্টি করে। তাদেরকে অতিরিক্ত ডলার ব্যয় করেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হয়।
রাশিয়া বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। তবে বিশ্বের প্রথম স্থানীয় তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আমেরিকা সর্বোচ্চ পরিমানে প্রতি দিন গড়ে ১১.৫৭ মিলিয়ন ব্যারেল এবং ১০.২৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সৌদি আরব।
২০২০ সালের হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে সেই আবার আমেরিকার নাম। আমেরিকা মূলত ২০২০ সালে প্রতি দিন গড়ে ১৭.১৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ব্যবহার বা খরচ করেছিল। তার পাশাপাশি ১৪.২৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ব্যবহার করে চীন দ্বিতীয় স্থানে এবং ৪.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ব্যবহার করে বিশ্বের মধ্যে ভারত তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
আবার বৈশ্বিক কৌশলগত জ্বালানি তেল মজুতের দিক দিয়েও কিন্তু এগিয়ে রয়েছে বিশ্বের এক নম্বর সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ পরিমাণে ৭১৪ মিলিয়ন ব্যারেল স্ট্যাটিজিক অয়েল রিজার্ভ বা কৃত্রিম রিজার্ভ ফ্যাসালিটি গড়ে তুলেছে দেশটি। তাছাড়া আমেরিকার পাশাপাশি চীনও কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পনা মাফিক সারা দেশে সর্বোচ্চ পরিমাণ প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড ওয়েল রিজার্ভ ফ্যাসালিটি প্লান্ট গড়ে তুলেছে।
আর আগামী এক দশকের মধ্যেই এই ওয়েল রিজার্ভ ক্যাপাসিটি ৫৫১ মিলিয়ন ব্যারেলে উন্নীত করার জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে চীনের শি জিং পিং সরকার। আর এ থেকে কিন্তু চীনের সার্বিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কোন পর্যায়ে চলে গেছে তা অনুমান করা যায়। যদিও অবশ্য ভারতের স্ট্যাটিজিক অয়েল রিজার্ভ ক্যাপাসিটি বর্তমানে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ব্যারেলে উন্নীত করা হয়েছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের কারণে পশ্চিমা বিশ্ব প্রায় শতাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়া তেল রপ্তানির সুযোগ সংকুচিত হয়ে গেলে রাশিয়া একেবারে হ্রাসকৃত মূল্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। আর একেবারে সীমিত দামের জ্বালানি তেলে ক্রয়ের এ সুযোগটিকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগিয়েছে চীন ও ভারত।
বিশেষ করে গত ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারত প্রতিদিন গড়ে ১.২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। তাছাড়া একই সময়ে চীনও কিন্তু রাশিয়া থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে।







