মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর ইরান হামলা জোরদার করায় ফের ঊর্ধ্বমুখে জ্বালানি তেলের দামে। এতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে বুধবার (১১ মার্চ) ইরানি সামরিক কমান্ডের এক মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের জন্য প্রস্তুত থাকুন। জ্বালানি তেলের দাম নির্ভর করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর, আর সেটি আপনারাই অস্থিতিশীল করে তুলেছেন।’
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৮ ডলার ৫৪ সেন্ট বা ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ৫২ সেন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৭ ডলার ২২ সেন্ট বা ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ৯৪ ডলার ৪৭ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে গত সোমবার ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ৫০ সেন্ট পর্যন্ত উঠেছিল, যা ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ। তবে ইরান যুদ্ধ ‘শিগগিরই শেষ হতে পারে’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পর দাম কিছুটা নেমে আসে।
ডাচ ব্যাংক আইএনজি গ্রুপের বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই। ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল প্রবাহে বিঘ্নের দ্রুত অবসানও দেখা যাচ্ছে না।
তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি তেলের দাম কমতে হলে একমাত্র উপায় হলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন স্বাভাবিক হওয়া। তা না হলে বাজারের সর্বোচ্চ দাম এখনো সামনে রয়েছে।
ইরাকের বন্দর কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ফারহান আল-ফারতৌসি গতকাল জানান, ইরাকের আঞ্চলিক জলসীমায় ইরাকি জ্বালানি তেল বহনকারী দুটি বিদেশী ট্যাংকারে অজ্ঞাত হামলাকারীরা আঘাত হানে, ফলে জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায়।
ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ইরান থেকে আসা বিস্ফোরকবোঝাই নৌকা ওই দুই ট্যাংকারে আঘাত করেছিল।
লাগামহীনভাবে দাম বাড়ার পর তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে এর বড় অংশ ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র।
খবর: রয়টার্স







