নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সাদৃশ্য ও সম্পর্ককে কাজে লাগাতে পারলে দু-দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। এক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
১৮ ফেব্রুয়ারি, চট্টগ্রামে আয়োজিত দ্য চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং ভারতীয় বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুবির চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যবিশিষ্ট বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এসব কথা উঠে আসে।
চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ ও পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি আবিদা মোস্তফা, কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের অ্যাডভাইজর কনসালট্যান্ট ক্যাপ্টেন আমিরুল ইসলাম, প্রান্তিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সারওয়ার, লুব-রেফের পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ইউসুফ ও জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল সভাপতি মো. টিপু সুলতান শিকদার বক্তব্য রাখেন। পরিচালকদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), অঞ্জন শেখর দাশ, মো. ইফতেখার ফয়সাল, মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নাসিরুল আলম (ফাহিম), রিলায়েন্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ, বিএসএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সুফিয়ান চৌধুরী প্রমুখ।
চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুদেশের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যা আমাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। সে জন্য আমাদের সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। আমাদের ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) পলিসি অত্যন্ত লাভজনক। ত্রিপুরাকে ঘিরে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো এগিয়ে নিতে পারলে উভয় দেশই লাভবান হবে।’ দুদেশের মধ্যে অনেক বাণিজ্য বৈষম্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ব্যবসায়ীদের যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে এ বৈষম্য দূর করা সম্ভব। তিনি ভারতের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বৃহৎ শিল্পাঞ্চল মিরসরাই শিল্পনগরে বিনিয়োগ ও শিল্প-কারখানা স্থাপনের আহ্বান জানান।
বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুবির চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের কালচার একই রকম, যা যৌথ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে কালচার মিল না থাকলে যৌথ বিনিয়োগ দীর্ঘস্থায়ী হয় না।’ তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাংলাদেশের গেটওয়ে না, এটা গেটওয়ে অব ইস্ট। তার সঙ্গে ভারতের সেভেন সিস্টারসসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোকে যুক্ত করে ইস্টার্ন রিজিওন কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি করে উভয় দেশ লাভবান হতে পারে’
চিটাগাং চেম্বার এবং বেঙ্গল চেম্বার যৌথভাবে একটা ইস্টার্ন রিজিয়ন নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করতে পারে উল্লেখ করে সুবির চক্রবর্তী আরো বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী। বাংলাদেশ এবং ভারতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নদীর ধারে এবং সাগর তীরকেন্দ্রিক। তাই রিভার ক্রুজ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, লেদার প্রসেসিং, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।’
এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নেটওয়ার্কের ভিত্তিতে আসিয়ানভভুক্ত দেশগুলোতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে লুক-ইস্ট পলিসির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। চিটাগং চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কোনো বৈপরীত্য নেই। যার প্রমাণ হলো দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ করিডোর বিনিময়। এছাড়া দুই দেশ চাইলে কোনো সমস্যা সমস্যাই নয়।’ তিনি উভয় দেশের মধ্যে হসপিটালিটি ও ট্যুরিজম সেক্টরের বিনিয়োগে বিশাল সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
মতবিনিময়ে অন্য বক্তারা জানান, ভাষা ও সংস্কৃতিগত মিল থাকায় দুই অঞ্চলের মধ্যে অসংখ্য বিষয়ে মিল রয়েছে। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীরা যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ঘটাতে পারে। কানেক্টিভিটি বাড়ানোর মাধ্যমে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতসহ এসএমই খাতের বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়গুলোও উল্লেখ করেন।







