সীন্দবাদ ডেস্কঃ বিশ্বে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক পরিবেশবান্ধব কারখানার মুকুট এখন বাংলাদেশের।রানা প্লাজা বিপর্যয়ের পর ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে থাকা তৈরি পোশাক খাত এখন শিল্পকারখানায় গো-গ্রিনে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। তৈরি পোশাকশিল্পসহ অন্যান্য খাতে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (এলইইডি) সার্টিফিকেশন পেয়েছে বাংলাদেশের ১৮৮টি কারখানা। লিড সনদে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ১০টি তৈরি পোশাক কারখানার মধ্যে বাংলাদেশেই আছে ৮টি।
শীর্ষ ১০-এর মধ্যে থাকা দেশের অন্যান্য পরিবেশবান্ধব কারখানা হলো রেমি হোল্ডিংস লিমিটেড, ফতুল্লা অ্যাপারেলস, তারাসিমা অ্যাপারেলস লিমিটেড, প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেড, সিল্কেন সুইং লিমিটেড, মিথেলা টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) লিড সনদের এই তালিকা প্রকাশ হয়েছে। বিজিএমইএ এই খবর নিশ্চিত করেছে।
এই ১০ কোম্পানির সব কটিই প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। ১১০-এর মধ্যে যেসব কোম্পানি ৮০ বা তার চেয়ে বেশি নম্বর পায়, তারা প্লাটিনাম সনদ লাভ করে। কোনো কারখানা ৬০ থেকে ৭৯ নম্বর পেলে গোল্ড সনদ পায়, ৫০ থেকে ৫৯ পেলে পায় সিলভার সনদ, আর ৪০ থেকে ৪৯ পেলে পায় সার্টিফায়েড সনদ।
এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পড়ে। তখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন আমরা দেশের অর্থনীতি ও পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কর্মপরিবেশ নিরাপদ রাখার জন্য বিনিয়োগ করা শুরু করি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সবুজ কারখানা প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। ’
বিজিএমইএ জানিয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে বাংলাদেশেই আছে ৫০টি। চলতি বছরে এই পর্যন্ত পাঁচটি কারখানা ইউনিট এলইইডি সার্টিফিকেশন পেয়েছে। নরসিংদীর পাঁচদোনায় অবস্থিত আমানত শাহ ফেব্রিকসে বছরের প্রথম এলইইডি সার্টিফিকেট পাওয়া কারখানা।
ইউএসজিবিসি তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দেশের পোশাকশিল্পে প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরির কারখানা আছে ৬৪টি, গোল্ড ১১০টি, সিলভারে ১০টি ও আরও চারটি এলইইডি প্রত্যয়ন পেয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে। এর বাইরে ৫৫০টি কারখানা হয় নিবন্ধিত বা ইউএসজিবিসির এলইইডি সার্টিফিকেশনের অপেক্ষায় রয়েছে।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএসজিবিসি কলকারখানার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল, বাড়ি, বিক্রয়কেন্দ্র, প্রার্থনার কেন্দ্রকে পরিবেশবান্ধব স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। লিড সনদের জন্য ১১০ পয়েন্টের মধ্যে ৮০-এর ওপরে হলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ হলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ হলে ‘লিড সিলভার’ এবং ৪০-৪৯ হলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ মেলে।
২০১২ সালে বাংলাদেশে প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানার স্বীকৃতি মেলে পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা সাজ্জাদুর রহমান মৃধার হাত ধরে। পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও এই মর্যাদা লাভ করে।







