সীন্দবাদ ডেস্ক: পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়নে নেদারল্যান্ডের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নেদারল্যান্ডস পার্লামেন্টের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিজিএমইএ পরিদর্শন গেলে তাদের কাছে এমন সহায়তা চাওয়া হয়।
বৈঠকে টেকসই উপায়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্য আরও সহযোগিতা প্রদানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন সার্কুলার ফ্যাশন, রিসাইক্লিং, জ্বালানি দক্ষতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে শিল্পকে সহায়তা করার জন্য সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান প্রতিনিধিদলকে পোশাক শিল্পে নিরাপদ কর্মক্ষেত্র গড়ে তোলা এবং সামাজিক ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স প্রতিপালনে শিল্পের অগ্রগতি বিষয়ে সার্বিক বর্ণনা দেন। তিনি ডাচ সংসদ সদস্যদের বিজিএমইএ’র টেকসই কৌশলগত রূপকল্প-২০৩০ সম্পর্কে অবহিত করে বলেন এই রূপকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য একটি টেকসই এবং উন্নত ভবিষ্যত নিশ্চিত করা।
ফারুক হাসান বলেন, বিজিএমইএ’র নতুন প্রত্যয়ের রূপকল্প অনুসারে, শিল্পটি উদ্ভাবন, ডিজিটালাইজেশন, পণ্য ও বাজারের বৈচিত্র্যকরণ এবং আরও উৎপাদনশীল হওয়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে টেকসই থাকার প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামাজিক, পরিবেশগত এবং জনগণের জন্য বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করে চলেছে।
বিজিএমইএ সভাপতি টেক্সটাইল শিল্পের জন্য বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে ওয়ান স্টপ রিসোর্স সেন্টার ও জ্ঞান কেন্দ্র (নলেজ হাব), টেক্সটাইল টেকনোলজি বিজনেস সেন্টারকে (টিটিবিসি) সহায়তা করার জন্য নেদারল্যান্ডস সরকারকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও তিনি নেদারল্যান্ডের সফররত পার্লামেন্ট সদস্যদের মাধ্যমে নেদারল্যান্ডস সরকারকে বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নির্বিঘ্ন রাখার জন্য জিএসপি (ইবিএ) এর ট্রানজিশন পিরিয়ড ৩ বছর থেকে এখন ৬ বছর সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেন।
বিজিএমইএ সভাপতি কলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প যেন আরও জ্বালানি ও সম্পদ সাশ্রয়ী হয়ে উঠতে পারে, রিসাইক্লিং এবং অন্যান্য পরিবেশগত ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সেজন্য নেদারল্যান্ডস সরকারকে জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং তহবিলের দিক দিয়ে শিল্পকে আরও সহযোগিতা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
তিনি শীর্ষস্থানীয় ডাচ ফ্যাশন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনস্টিটিউটগুলোর সহযোগিতার মাধ্যমে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষার্থীদের টেক্সটাইল, পোশাক, ফ্যাশন, ডিজাইন এবং ব্যবসা প্রভৃতি বিষয়গুলোতে আরও জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের বিষয়ে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রতিনিধিদল পোশাক শিল্পের উন্নতি এবং শ্রমিকদের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন নেদারল্যান্ডের সংসদ সদস্য পিম ভ্যান স্ট্রিয়েন, আলেকজান্ডার হ্যামেলবার্গ, মোস্তফা আমহাউচ, রেমন্ড ডি রুন এবং স্ট্রিয়েনেকে ভ্যান ডার গ্রাফ।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত অ্যান ভ্যান লিউয়েন, ডেপুটি হেড অব মিশন থিজস ওয়াউডস্ট্রা, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মিরান আলী এবং দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি বাস প্রমুখ।







