সিরাজুর রহমান: বর্তমানে বিশ্বের বুকে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়, ভিয়েতনাম তৃতীয় স্থানে এবং রেড জায়ান্ট চীন রয়েছে প্রথম স্থানে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে ৪২.৬৩১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক সারা বিশ্বে রপ্তানি করে নতুন মাইলফলক অর্জন করে। আর বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮১.৮১% অবদান রয়েছে বিশ্ব মানের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতের।
যদিও আমাদের সোনার বাংলাদেশ প্রথম তৈরি পোশাক রপ্তানি করে ১৯৭৮ সালে রিয়াজ গার্মেন্টসের হাত ধরে। বাংলাদেশের এক সফল উদ্যোক্তা রিয়াজ উদ্দিন তার প্রতিষ্ঠিত ‘রিয়াজ গার্মেন্টস’ ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রথম ফ্রান্সে ১০ হাজার পিস শার্ট রপ্তানি করে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করে।
মূলত ১৯৬৩ সালে পুরোনো ঢাকার উর্দূ রোডে রিয়াজ ষ্টোর নামে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের প্রথম ‘রিয়াজ গার্মেন্টস’। ১৯৬৫ সালে রিয়াজ ষ্টোর এর মালিক জনাব রিয়াজ উদ্দিন করাচি ভ্রমণকালে একটি গার্মেন্টসকে মাসে ১লক্ষ পিস পোশাক রপ্তানী করতে দেখে নিজেও বিদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানির স্বপ্ন লালন করতে থাকেন।
পোশাক তৈরির শুরুতে তাঁরা শুধু দেশের চাহিদাই পুরণ করত। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর রিয়াজ উদ্দিন ১৯৭৩ সালে ‘রিয়াজ ষ্টোর’ এর নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়াজ গার্মেন্টস’ রাখেন। তার পাশাপাশি বিদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য ব্যাপকভাবে কাজ শুরু করেন তিনি। অবশেষে ১৯৭৮ সালের ২৫শে জুলাই টিসিবির সহায়তায় রিয়াজ গার্মেন্টসে’র হাত দিয়ে সর্বপ্রথম ফ্রান্সে ১০ হাজার শার্ট রপ্তানি করে বাংলাদেশ। যার রপ্তানি মূল্য ছিল ৪ লক্ষ টাকা।
১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ থেকে ‘রিয়াজ গার্মেন্টস’ প্রথম পোশাক রপ্তানি করলেও শতভাগ রপ্তানিমুখী রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্প হিসেবে ‘দেশ গার্মেন্টস’ আত্মপ্রকাশ ১৯৮০ সালে। বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক বা বস্ত্র শিল্পের আরেক স্বপ্নদ্রষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নুরুল কাদের। তিনি প্রথম ১৯৭৭ সালের ২৭ই ডিসেম্বর দক্ষিন কোরিয়ার দাইয়ু গ্রুপের সাথে যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত করেন বাংলাদেশের প্রথম শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান “দেশ গার্মেন্টস”। তার প্রতিষ্ঠিত ‘দেশ গার্মেন্টস’ রপ্তানিযোগ্য তৈরি পোশাক উৎপাদন শুরু করে ১৯৮০ সালে।
আর ‘রিয়াজ গার্মেন্টস’ এবং ‘দেশ গার্মেন্টসে’র মতো কিছু প্রতিষ্ঠানের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিশ্বের বুকে তৈরি পোশাক রপ্তানির অতি সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। আর আগামী ৫ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৭০-৮০ বিলিয়ন ডলারের সীমাকে বাংলাদেশ স্পর্শ করবে ইনশাআল্লাহ।







