সিরাজুর রহমান, নাটোরঃ সিএনএন নিউজের দেয়া তথ্যমতে, গত ২৪শে জানুয়ারি মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এফ-৩৫সি সিরিজের এডভান্স স্টেলথ জেট ফাইটার ক্রাস করেছে। মূলত দক্ষিণ চীন সাগরের নিয়মিত টহল দান শেষে এয়ার ক্রাফট ক্যারিয়ারে অবতরণের সময় এই দূর্ঘটনা ঘটে এবং এতে পাইলটসহ মোট ৭জন মারাত্বকভাবে আহত হন। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন খুব সম্ভবত ২০২৩ সালেই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিবীড়ভাবে যাচাই ও পরীক্ষা করার স্বার্থে সম্পূর্ণ ফ্লীট স্বল্প মেয়াদে গ্রাউন্ডেড করতে পারে।
এটি ছিল চলতি ২০২৩ সালের এফ-৩৫ স্টেলথ জেট ফাইটারের প্রথম কোন ক্রাস রিপোর্ট। তাছাড়া গত ২০২২ সালের সারা বছরে মোট ৫টি বিভিন্ন সিরিজের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টেলথ জেট ফাইটার নন কমব্যাট মিশনে ধ্বংস কিংবা ক্রাস ল্যান্ডিং করে। তার সাথে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩ সালের ২৪শে জানুয়ারি পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর কমপক্ষে মোট ১৩টি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এফ-৩৫ এ,বি ও সি সিরিজের স্টেলথ জেট ফাইটার কোন রকম যুদ্ধ না করেই বা নন-কমব্যাট মিশনে আকাশেই ধ্বংস হয়েছে কিংবা মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
মাল্টি-নেশন জয়েন প্রজেক্ট ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কার্যকারিত এবং সার্বিক পার্ফমেন্স নিয়ে মার্কিন বিমান বাহিনী অনেক আগে থেকেই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিল। বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা, ত্রুটি যেন এর পিছু ছাড়ছিল না এফ-৩৫ স্টেলথ জেট ফাইটারের। সার্ভিসে আসার পর থেকেই এ নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশ কয়েকবার চরম আপত্তি ও সমস্যার বিষয়টি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছিল। তবে মার্কিন এভিয়েশন জায়ান্ট লকিহীড মার্টিন কর্পোরেশনের তরফে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের অধিকাংশ প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও জটিলতা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বর্তমানে লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন ২০০৬ সাল থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৮৯০টি বিভিন্ন সিরিজের এফ-৩৫ স্টেলথ জেট ফাইটার তৈরি করেছে। তাছাড়া বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যবহারকারী হিসেবে মার্কিন বিমান বাহিনীতে ৩০১টি এফ-৩৫এ সিরিজের স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ইউএস মেরিন কর্পোস ১১৪টি এফ-৩৫বি/সি সিরিজের এবং ইউএস নেভী ২৫টি এফ-৩৫সি সিরিজের এডভান্স স্টেলথ জেট ফাইটার অপারেশনাল রয়েছে। আবার আমেরিকার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ৫০টি এফ-৩৫এ, ডেনমার্ক ৬টি, ইসরাইল ৩৬টি, যুক্তরাজ্য ৩০টি, ইতালি ১৩টি, জাপান ২৭টি, নেদারল্যান্ডস ২৪টি, নরওয়ে ৩১টি, দক্ষিণ কোরিয়া ৪০টি বিভিন্ন সিরিজের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান অপারেট করে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী কার্যত এফ-১৬ এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলো ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে অবসরে পাঠিয়ে তার রিপ্লেস হিসেবে নতুন প্রজন্মের হাইলি এডভান্স এফ-৩৫ স্টেলথ জেট ফাইটার সার্ভিসে আনার পরিকল্পনা করেছিল। তবে বর্তমানে তারা এর উপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের বিমান বহরে থাকা ভালো মানের পুরনো সকল এফ-১৬ এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলোকে মেজর আপগ্রেডিং এবং নতুন প্রযুক্তি ইনস্টলেশন করে কমপক্ষে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সার্ভিসে রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যেই বিলিয়ন ডলার বাজেট বরাদ্দ দিয়ে আপগ্রেডিং কার্যক্রম শুরু করেছে।







