সীন্দবাদ ডেস্ক :: এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের স্থানীয় গ্রেড আরব লাইট ক্রুডের দাম কমিয়েছে সৌদি আরব। ২৭ মাসের মথ্যে এ দাম সর্বনিম্ন। মূল্য হ্রাসের এ সিদ্ধান্ত আগামী ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহযোগ্য জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অপরিশোধিত জ্বারানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে আরব লাইট ক্রুডের দাম কমিয়েছিল দেশটি।
সৌদি জ্বালানি জায়ান্ট আরামকো ২০২১ সালের নভেম্বরের পর এবারই প্রথম আরব লাইটের দাম সর্বনিম্নে কমিয়েছে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে এশিয়া অভিমুখী আরব লাইট ক্রুডের আনুষ্ঠানিক বিক্রয়মূল্য (ওএসপি) জানুয়ারির তুলনায় ২ ডলার কমিয়েছে সৌদি জ্বালানি জায়ান্ট আরামকো। সে হিসেবে ওমান ও দুবাই বাজার আদর্শের বিপরীতে আরব লাইট ক্রুডের ওএসপি নেমেছে ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৫০ সেন্টে। এর অর্থ হলো আগামী ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে ওমান বা দুবাই ক্রুডের দাম যদি ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার হয়, তবে এশিয়ার রিফাইনারিগুলোকে আরব লাইট ক্রুড কিনতে হবে ১০১ ডলার ৫০ সেন্টে।
সৌদি আরামকো ১৩ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্য ছাড় দিয়েছে এবার। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও আটলান্টিক বেসিনের ব্রেন্টের দাম কম থাকায় আারব লাইটের এ মূল্য হ্রাস প্রত্যাশিত বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতেই সৌদি আরব এশিয়ার জন্য আরব লাইট ক্রুডের দাম কমিয়েছে, যা দেশটিকে এশিয়ায় বাজার হিস্যা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ সৌদি আরব। দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত অব্যাহত রেখেছে দেশটি। গত ডিসেম্বরে উত্তোলন কমানোর মেয়াদ আরো তিন মাস বাড়িয়েছিল দেশটি।
উত্তর এশিয়ার এক জ্বালানি তেল পরিশোধন ব্যবসায়ী বলেছেন, অন্যান্য আঞ্চলের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তুলনায় সৌদি আরব লাইটের দাম অপেক্ষাকৃত ব্যয়বহুল। তবে দাম কমানোয় আমরা খুশি। এতে খরচ আগের চেয়ে কমে আসবে।
এশিয়ার স্পট মার্কেটেও জ্বালানি তেলের দাম গত মাসে কমেছে। কারণ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকালীন রক্ষণাবেক্ষণ উপলক্ষে অনেক পরিশোধন কারখানা বন্ধ থাকবে। ফলে চাহিদা কমায় এ সময় বাজারে সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব কমে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস দৈনিক ২২ লাখ ব্যারেল সরবরাহ কমানো সত্ত্বেও তা বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার মতো যথেষ্ট নয়। কারণ জ্বালানি তেল মজুদে এখনো তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তাই বাজার অংশীদারদের প্রত্যাশা, ২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধের আগে সরবরাহস্বল্পতার কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা কম।
সৌদি আরামকো অন্যান্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও কমিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে ব্যারেলপ্রতি ডিসেম্বরের তুলনায় ২ ডলার করে কমানোর ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।
অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলের জন্য আরামকো আরব লাইটের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার কমিয়েছে। তবে তা ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জের (আইসিই) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের চেয়ে ৯০ সেন্ট বেশি থাকবে।
খবরে – রয়র্টাস







