সীন্দবাদ ডেস্ক : ওপেক ও সহযোগী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস চলতি বছর কয়েক দফায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ও রফতানি কমিয়েছে। ফলে বর্তমান বাজারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে জ্বালানি সরবরাহের। তবে উত্তোলন ও রপ্তানি কমানোর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও আগামী বছর সরবরাহ বাড়বে বলে মত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)‘র।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাবে। ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো কমালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলসহ জোটের বাইরের দেশগুলোয় উত্তোলন বাড়বে লক্ষণীয় মাত্রায়, যা বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রাখবে।

আইএনজি স্ট্র্যাটেজিস্ট ওয়ারেন পিটারসন ও ইওয়া মান্থি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাসের কারণে সম্প্রতি ওপেকের উত্তোলন কমানোর বিষয়টি অনেক বেশি আলোচনায় এসেছে। তবে ওপেক প্লাস উত্তোলন কমাবে কিনা সে বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্যমতে, চলতি মাস পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ১৮ লাখ ব্যারেলে। যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উত্তোলন এবং ব্রাজিলে রেকর্ড উত্তোলনের কারণে সরবরাহ ফুলেফেঁপে উঠেছে।
চলতি বছরের শেষ নাগাদ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দাঁড়াতে পারে দৈনিক ১০ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে। এক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে চীন। দেশটিতে জ্বালানিটির ব্যবহার নজিরবিহীন বাড়ছে।
চলতি বছর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলেও আগামী বছর তা বাড়বে বলে জানিয়েছে জ্বালানি সংস্থা। এ সময় চাহিদা দৈনিক ১০ কোটি ২৯ লাখ ব্যারেলে পৌঁছতে পারে। তবে সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে দৈনিক ১০ কোটি ৩৪ লাখ ব্যারেলে।

আইইএ জানায়, উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোয় শীত মৌসুমকে কেন্দ্র করে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় সরবরাহ কম। এ কারণে বর্তমানে জ্বালানিটির বাজার ঘাটতির মধ্যে রয়েছে। তার ওপর বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে অনিশ্চয়তা। ফলে চলতি বছরজুড়ে বাজার ভারসাম্য নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাবে।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরও দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমাবে ওপেকের শীর্ষ উত্তোলক সৌদি আরব। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য দাম বাড়ানো। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় জ্বালানিটির দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ থেকে ৮০ ডলারে নেমেছে। সাধারণত বছরের প্রথম প্রান্তিকে জ্বালানি তেলের চাহিদা কম থাকে। বিষয়টিও দেশটিতে উত্তোলন কমাতে উদ্বুদ্ধ করছে।