সীন্দবাদ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যে লাফিয়ে বাড়ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা। গত বছর ইইউ ও যুক্তরাজ্যে এলএনজি আমদানি ৬০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে এনার্জি জায়ান্ট শেল। এলএনজি আউটলুক-২০২৩ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমনটা জানানো হয়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম আরটি জানিয়েছে, ইইউ এবং যুক্তরাজ্যে ২০২২ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে এলএনজির আমদানি বেড়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ আমদানি আরও বাড়বে বলে মনে করে শেল। এর কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ শক্তি জায়ান্ট শেল এক প্রতিবেদনে বলেছে, রাশিয়া থেকে পাইপলাইন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইইউ ও যুক্তরাজ্যকে ব্যাপক আকারে ভুগতে হয়েছে। তারা হন্য হয়ে রুশ গ্যাসের বিকল্প খুঁজেছে। ফলে ২০২২ সালে ইইউ ও যুক্তরাজ্য ১২১ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করেছে। যা ২০২১ সালের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি।
গত বছর ইউরোপ এ পরিমাণ এলএনজি আমদানি করতে পেরেছে শুধুমাত্র চীনের বাজারে চাহিদা কম থাকায় এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কম পরিমাণে এলএনজি আমদানি করায়। তবে শেল বলছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে ইউরোপকে তীব্র বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। কারণে এলএনজির সরবরাহ সীমিত ও ইউরোপের চাহিদা ক্রমবর্ধমানভাবে বাড়ছে।
শেল জানিয়েছে, ইউরোপের এ উচ্চ চাহিদা ইতোমধ্যে এশিয়ান স্পট মার্কেটে এলএনজির দামকে রেকর্ড উচ্চতায় ঠেলে দিয়েছে। যা প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ৭০ দশমিক ৫ ডলার। ফলে বৈশ্বিক এলএনজির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
শেলের এনার্জি মার্কেটিংয়ের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টিভ হিল বলেছেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সারাবিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে। সেই সঙ্গে বাজারে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটিয়েছে। যা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক এলএনজি খাতকে প্রভাবিত করতে পারে।’
২০২২ সালে বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্য ৩৯৭ মিলিয়ন টন ছুঁয়েছে। যা ২০২১ সালের তুলনায় ১৬ মিলিয়ন টন বেড়েছে। শেল ধারণা করছে, ইউরোপ এবং এশিয়ায় সরবরাহের বিদ্যমান প্রতিযোগিতার কারণে বৈশ্বিক এলএনজি বাজার চলতি দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চাপের মুখে থাকবে।
প্রতিবেদনে শেল জানিয়েছে, সহসাই বৈশ্বিক এলএনজি বাজারের অস্থিরতা যাচ্ছে না। যদিও সীমিত আকারে নতুন উৎস থেকে এলএনজি আসবে, তবে চাহিদা ও যোগানের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যা দীর্ঘদিন থাকবে। ভবিষ্যতে এলএনজির চাহিদা মেটাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। কেননা, ইউরোপের দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এলএনজি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে।
শেলের তথ্য বলছে, বিশ্বব্যাপী এলএনজির চাহিদা ২০৪০ সাল নাগাদ ৭০০ মিলিয়ন টনে পৌঁছে যাবে।
প্রসঙ্গত, গত বছর বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩৯ কোটি ৭০ হাজার টন, যা ২০২১ সালের তুলনায় ১ কোটি ৬০ লাখ টন বেশি। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে এ বছর বাণিজ্য সংকোচনের মুখে থাকবে।







