সীন্দবাদ ডেস্কঃ চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে ৪৬৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশে ৩ হাজার ৭০৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। যা ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৩৮৪ কোটি ৩৪ লাখ ডলারে। এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে বরাবরের মতোই রপ্তানি খাতে চমক দেখিয়েছে তৈরি পোশাক খাত। এক বছরের ব্যবধানে তৈরি পোশাকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ০৬ শতাংশ। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ১৩৬ কোটি ১৮ লাখ ডলার। যেখানে নিটওয়্যার রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৭০৬ কোটি ডলার।
গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫০৬ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। ফলে নিট পোশাকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ২১ শতাংশে। একই সঙ্গে এ সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৪৩০ কোটি ১৫ লাখ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২৪২ কোটি ৭২ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ওভেন পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ০৮ শতাংশে।
রপ্তানির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্লাস্টিক পণ্যে। ইপিবির তথ্য বলছে, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিক পণ্যে প্রায় ৩৭ দশমিক ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত ৮ মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৮৩ কোটি ২৩ লাখ ডলার। আর প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলার।
এর বিপরীতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে কৃষিপণ্যে ২৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ, কেমিক্যাল পণ্যে ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ, রাবারে ৩৪ দশমিক ২৪ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্যে ২৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ রপ্তানি কমেছে।
ইপিবির তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৪৬৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ কম। তবে রপ্তানি আয় গত ৪ মাস ধরে ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।
রপ্তানি আয়ের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি এম এ মোমেন বলেন, ‘জুন পর্যন্ত আশা করছি রপ্তানি আয় ইতিবাচক ধারায় থাকবে। এর ব্যতিক্রম আশা করি হবে না। এরমধ্যে ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম কিছুটা বাড়বে। তারপরও বেশি সমস্যা হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও স্পট মার্কেট থেকে ১৫ থেকে ১৬ ডলারেই কিনতে পারছি। এতে জ্বালানির সমস্যা জুন পর্যন্ত হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন পরেই আমরা বিজনেস সামিট করছি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং হবে। বিদেশি ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীরা এই সামিটের মাধ্যমে আমাদের সক্ষমতা বিষয়ে জানতে পারবে। যা রপ্তানি আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।’







