সীন্দবাদ:: দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পট পরিবর্তনের মাঝে শতভাগ রপ্তানিকারক তৈরী পোশাক শিল্পের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সচল রাখার লক্ষ্যে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ অধিকতর তৎপর ও সকল মহলের সাথে সার্বোক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমস্ হাউজের কমিশনার ফাইজুর রহমান-এর সহিত তাঁর কার্যালয়ে চলতি মাসে ২য় বারের মত বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ মতবিনিময়ে মিলিত হন।
এসময় সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড খ্যাত রপ্তানিকারক তৈরী পোশাক শিল্প আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিযোগী দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে এ’শিল্পকে টিকিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার সহ সকল মহলের সহযোগিতায় এ’শিল্প আজ একটা অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। আমাদের বাজার সম্পূর্ণ বিদেশী ক্রেতা বাজার। এ’বাজার ধরে রাখা ক্রেতার ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর নির্ভরশীল। ক্রেতা সবসময় তার ক্রয়াদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে একটা নির্ভরশীল, আস্থা ও উপযোগী স্থান বেছে নেন। কিন্তু এ কথা সত্য যে, আজ আমরা এক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিনাতিপাত করছি। আমরা চাই না এই অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হোক। এ’সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন দেশের ব্যবসায়ি সমাজ। ইতিমধ্যে গত কয়েকদিনে রপ্তানিকারক তৈরী পোশাক শিল্প হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। রাজনীতির কারণে কোন ভাবেই অর্থনীতির উপর যেন আঘাত না আসে তা সকলেরই চাওয়া-পাওয়ার বিষয় হোক। কাস্টমস্্ হাউজের সর্বোচ্চ সহযোগিতা ছাড়া এ’শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কোন ভাবেই সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক ভাবে আমরা যতটা না ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি, তার চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি ইমেজ সংকটে। ক্রেতারা আমাদের দেশ থেকে ক্রয়াদেশ বাতিল করছে, হচ্ছে কাটছাট এবং নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রেও আশংকা থেকে যায়। তিনি বর্তমান সংকটকালে শর্ট শিপমেন্ট, আমদানিতে এইচ.এস কোডের জটিলতা, ওজন ও কার্টুন সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যাদি সহজীকরণ করার জন্য কাস্টমস্্-এর সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশা করেন এবং এ’মুহুর্তে ছোট খাটো ত্রæটিকে কেন্দ্র করে আমদানি-রপ্তানি যাতে বাঁধাগ্রস্থ না হয় সে’ব্যাপারে বিশেষ নজরদারী করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ফাইজুর রহমান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় পোশাক শিল্পের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন- বর্তমান বিশ^ অর্থনৈতিক সংকট কালীন সময়ে পোশাক শিল্পের আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম দ্রæততার সাথে সম্পাদনে কাস্টম হাউস চট্টগ্রাম সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন। পোশাক শিল্পের আমদানি-রপ্তানিতে কাস্টমস্ সম্পর্কিত বিরাজমান সমস্যাদি দ্রæত সমাধান করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে মর্মে বিজিএমইএ’র নেতৃবৃন্দেরকে পুনরায় আশ^াস প্রদান করেন।

মতবিনিময় কালে অন্যান্যদের মধ্যে বিজিএমইএ’র পরিচালক সর্বজনাব জনাব এম. এহসানুল হক, আমজাদ হোসাইন চৌধুরী, রাকিব আল নাসের, গাজী মোঃ শহীদউল্লাহ সহ কাস্টমস্্ হাউজের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

(প্রেস বিজ্ঞপ্তি)