সীন্দবাদ ডেস্ক : দেশের বাণিজ্যের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা এলে তা অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

রোববার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকায় অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে সংবাদপত্র প্রকাশকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ব্যক্তি ও কোনো সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞায় কিছু আসে যায় না। কিন্তু বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের জন্য বড় জিনিস। কারণ এখানে একটাই মাত্র পণ্য। সেটার ওপর বিধিনিষেধ এলে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসবে।
এ সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে তাগিদ দেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে চলছে, তা ঠিক না করে প্রশমনমূলক সেবা (পেলিয়েটিভ ট্রিটমেন্ট) দিয়ে লাভ হবে না।
ভেতরের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। বাইরের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত সমস্যা থাকবেই। এর মধ্যে থেকেই ভেতরের সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে।

এসওএএস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক ড. মুশতাক খান বলেন, দেশে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেটা ফেরত দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। এমন অবস্থা চলতে থাকলে একপর্যায়ে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি আছে। বেশি ব্যয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করায় বিদ্যুৎ খাত ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় বোঝা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংক খাতে সংকটের বড় কারণ ঋণের সুদের হার ছয় থেকে নয় শতাংশ। এ কারণে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। আর ব্যাংক থেকে যে অর্থ বের হয়ে গেছে, তা আর ফিরে আসেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, উন্নয়নের যে গল্প এখন করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে জারি রাখা যাবে না। যেমন, বলা হয় দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটা খাদ্যের সঠিক চিত্র নয়। কারণ, দেশে বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য আমদানি হয়। জ্বালানি নিরাপত্তাও হুমকির দিকে যাচ্ছে।