বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরের ২৩টি লিড সার্টিফায়েড স্থাপনার মধ্যে ২১টিই বাংলাদেশে অবস্থিত। আর বিশ্বের শীর্ষ ১০ পরিবেশবান্ধব কারখানার নয়টিই বাংলাদেশে অবস্থিত। এ অর্জন জাতি হিসেবে আমাদের গর্বিত করে বলে মন্তব্য করেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে ‘রোডম্যাপ টু রিকভারি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।
এসময় ফারুক হাসান বলেন, বাংলাদেশে লিড সনদপ্রাপ্ত গ্রিন কারখানার সংখ্যা বেড়ে ২১৪টিতে দাঁড়িয়েছে। ২০২০ সাল পর্যন্ত গ্রিন কারখানার সংখ্যা ছিল ১২৮। গত তিন বছর তিন মাসে নতুন ৮৬টি কারখানা যোগ হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫টি প্লাটিনাম, ৩৮টি গোল্ড, একটি সিলভার ও দুটি সাধারণ সার্টিফায়েড মানের। ২০২৪ সালের এখন পর্যন্ত মোট আটটি পোশাক কারখানা লিড সনদ পেয়েছে, যার মধ্যে চারটিই ছিল প্লাটিনাম, আর চারটি গোল্ড সনদপ্রাপ্ত। এর মধ্যে একটি বিশ্বের প্রথম স্থান অর্জন করেছে। বিশ্বে শীর্ষ দুটি কারখানাই বাংলাদেশের।
বিজিএমইএ সভাপতি জানান, স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পের মূল্য সংযোজন সক্ষমতা বেড়েছে, যার ফলে একদিকে আমাদের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ছে, ক্রেতাদের আমরা পূর্ণাঙ্গ (ফুল প্যাকেজ) অফার করতে পারছি, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে ও কর্মসংস্থান বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) স্থানীয় মূল্য সংযোজন ৭১ দশমিক ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৭০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মহামারীর আগের অর্থবছর ২০১৮-১৯ সালে স্থানীয় মূল্য সংযোজন ছিল ৬৪ দশমিক ৩২ শতাংশ।
এছাড়াও ফারুক হাসান জানান, ২০২৬ সালের পর এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন হলে স্থানীয় উৎপাদন ডাবল ট্রান্সফরমেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তখন জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে ফ্যাব্রিকস এবং সেলাই—দুটোই স্থানীয় পর্যায়ে হতে হবে। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে প্রচুর বিনিয়োগ এখনই করতে হবে।
সভাপতি জানান, বিগত তিন বছরে দেশে ৩৯৩টি নতুন কারখানা রফতানিমুখী উৎপাদনে এসেছে। এছাড়া নতুন বাজারে গত ১৪ বছরে রফতানি ১০ গুণ বেড়েছে।
গেছে ১৪ বছরে নতুন বাজারগুলোয় পোশাক রফতানি ৮৪৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। চলতি অর্থবছরের আট মাসে নতুন বাজারে পোশাক রফতানি ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে তুরস্কে ৬৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সৌদি আরবে ৪৭ দশমিক ১৯ শতাংশ, চীনে ৪৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, রাশিয়ায় ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ২১ দশমিক ২৯ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে। বর্তমান সংকটময় সময়ে নতুন বাজারে এ প্রবৃদ্ধি রফতানিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনেছে।
ফারুক হাসান এসময়ে আরো বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের মোট পোশাক রফতানির প্রায় ৭৪ শতাংশ ছিল কটনের তৈরি, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ নন-কটন খাতে বিনিয়োগ ও রফতানি বাড়ছে। সঠিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে পারলে নন-কটন খাতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এর বাইরে আমরা আমাদের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র যেমন মসলিন, জামদানি, সিল্ক, খাদি ব্যবহার করে রফতানি পণ্য তৈরির বিষয়ে বেশকিছু সফল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। এসব পোশাক আমরা এরই মধ্যে জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রদর্শন করেছি। এসব পণ্য ও কাঁচামালের জোগান আমাদের স্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে, যা ব্যবহার করতে পারলে আমাদের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হতে পারে।







