সীন্দবাদ ডেস্ক: এশিয়ার বেশির ভাগ দেশের প্রধান খাবার ভাত। বিশ্বে যে পরিমাণ চাল সরবরাহ হয় তার ৯০ শতাংশই উৎপাদন হয় এশিয়ার দেশগুলোয়। বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও ভিয়েতনামের মতো দেশে মোট আবাদি জমির বেশির ভাগ অংশেই ধান চাষ হয়। এছাড়া এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে চাল রফতানিতে শীর্ষে রয়েছে ভারত, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড। গত বছর চাল রফতানিতে রেকর্ড করে ভারত। কারণ হিসেবে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় কম দামের কথা বলা হচ্ছিল। গত মাসে দাম বাড়লেও চলতি সপ্তাহে ভারতে চালের রফতানি মূল্য কমেছে। কারণ হিসেবে মূল আমদানিকারক দেশগুলোর চাহিদা কমে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে ভিয়েতনামের মেকং ডেল্টা অঞ্চলে শীত-বসন্তকালীন মৌসুমে দারুণ ফলন হওয়ায় দেশটি থেকে সরবরাহ অনেক বেড়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
ভারতীয় ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল চলতি সপ্তাহে টনপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৩৮৫ থেকে ৩৯০ ডলারে। এক সপ্তাহ আগেই যা ছিল ৩৯০-৩৯৫ ডলার। এর আগে ফেব্রুয়ারির ২৩ তারিখ টনপ্রতি এ চালের দাম উঠেছিল ৪০০ ডলারে, যা ২০২১ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ।
চালের রফতানি মূল্য কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে ভারতের শীর্ষস্থানীয় চাল রফতানিকারক সত্যম বালাজির নির্বাহী পরিচালক হিমাংশু আগারওয়াল বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে রফতানি মূল্য এবং বাল্ক ভেসেলে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা কমেছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভারত স্থানীয় সরবরাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যে গত বছর ভাঙা চাল রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে। সাদা চাল রফতানিতে আরোপ করা হয় ২০ শতাংশ শুল্ক। এর পরও তুলনামূলক কম দামের কারণে দেশটির চালের চাহিদা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ফলে ২০২২ সালে দেশটির চাল রফতানি রেকর্ড স্পর্শ করে। তবে ভাঙা চালের ওপর থেকে রফতানি নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া কিংবা সাদা চাল রফতানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের কথা ভাবছে না ভারত। বরং এসব বিধিনিষেধের সময়সীমা আরো বাড়ানো হতে পারে। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই রফতানি সীমিত রাখার সিদ্ধান্তে অটল দেশটি।
অন্যদিকে, ভারতের ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম কমলেও বিশ্ববাজারে ভিয়েতনামের একই মানের চালের দাম আগের মতোই রয়েছে। টনপ্রতি এ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৪৪৫ ডলারে। এক সপ্তাহ আগেও এ দামেই বিক্রি হয়েছে ভিয়েতনামের চাল।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেকং ডেল্টা অঞ্চলে শীত-বসন্তকালীন ফলন খুব ভালো হয়েছে। যার কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এ চাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যেহেতু চাহিদা শক্তিশালী রয়েছে তাই দামের ওপর তেমন প্রভাব পড়েনি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনাম ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৬৭ টন চাল রফতানি করেছে।
একই সময়ে থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ ভাঙা চাল চলতি সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে টনপ্রতি ৪৬০ ডলারে। এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ৪৫০-৪৬০ ডলার। ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘দাম এখনো একটি স্থানে স্থির রয়েছে, কারণ চাহিদা ও সরবরাহ এখনো বেশ স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে আমাদের নতুন ফসল ওঠার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশের বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। দেশটির প্রধান খাদ্য চালের দাম কমাতে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের পরও চালের দাম বাড়তি। বাংলাদেশ সরকার বেসরকারি খাতকে চাল আমদানির অনুমতি দেয়ার পাশাপাশি সরকারিভাবে ভিয়েতনাম, ভারত ও মিয়ানমার থেকেও চাল কেনা হচ্ছে।







