সীন্দবাদ ডেস্কঃ চীনের বৃহত্তম ঋণদাতা ব্যাংক ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (আইসিবিসি) লকবিট নামে পরিচিত একটি হ্যাকার গোষ্ঠীর আক্রমণের শিকার হয়েছে। আইসিবিসি‘র যুক্তরাষ্ট্র ইউনিটে র্যা নসমওয়্যার ভাইরাস হামলা করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার আইসিবিসি ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে আক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাদের ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ইউনিটে একটি র্যা নসমওয়্যার আক্রমণের ফলে কিছু সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটেছে। এ বিষয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে আক্রমণের শিকার সিস্টেমগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ কাজে কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। তবে এই র্যা নসমওয়্যার আক্রমণের কারণে আইসিবিসির প্রধান কার্যালয়, নিউইয়র্ক শাখা ও অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমগুলো প্রভাবিত হয়নি।
সম্পদের ভিত্তিতে আইসিবিসি ব্যাংক শুধু চীনের বৃহত্তমই নয়, বরং বিশ্বেরও অন্যতম বৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। সাধারণত ক্রিপ্টো কারেন্সি বা মুদ্রায় লেনদেনে পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ রয়েছে। এ কারণে হ্যাকাররা ক্রিপ্টো লেনদেন পছন্দ করে। কিন্তু চীনে ক্রিপ্টো মুদ্রা সম্পর্কিত লেনদেন নিষিদ্ধ।
এর আগেও বড় ধরনের সাইবার হামলা করেছে লকবিট হ্যাকার গোষ্ঠী। এরা উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং, ফিনটেক কোম্পানি আইওএন ট্রেডিং ও যুক্তরাজ্যের ডাক পরিষেবা কোম্পানি রয়েল মেইলে ও আক্রমণ করেছিল। এছাড়ৃাও জাপানের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মেইল, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থ বিভাগ ও কানাডার একটি শিশু হাসপাতাল সাম্প্রতিক সময়ে লকবিটের হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। বড় কোনো সাইবার আক্রমণ বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অংশকে বিকল করে দিতে পারে, এমনটাই বলছেন বিশেষগ্যরা।
সুইডেনের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ট্রুসেকের প্রতিষ্ঠাতা মার্কাস মারে বলেন, বিশ্বব্যাপী বড় ব্যাংকগুলোর জন্য এটি একটি সত্যিকারের ধাক্কা। আইসিবিসির ঘটনার পরে এখন থেকেই বড় ব্যাংকগুলো তাদের সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করতে কাজ শুরু করবে।
লকবিট মূলত রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একটি অপরাধ সংঘটনকারী গোষ্ঠী। তারা মানুষের কম্পিউটারের বিভিন্ন ফাইলে প্রবেশে সক্ষম এবং ক্ষতিকর র্যানসমওয়্যার সফটওয়্যার বা ভাইরাস ব্যবহারে বেশ পারদর্শী।