সিরাজুর রহমানঃ সাম্প্রতিক সময়ে অবিশ্বাস্য গতিতে পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সার্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা খাত। স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান (এসপিবি) এর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংক্রান্ত বিষয়ে সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, চলতি ২০২২ সালের ২রা ডিসেম্বরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র ৬.৭২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। যা কিনা বিগত ৪ বছরের মধ্যে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল এটি। তবে রিজার্ভ হ্রাস পেলেও দেশটির সার্বিক বৈদেশিক ঋন ও দেনার বোঝা কিছুটা কমে ১০৫.৩৪ বিলিয়ন ডলারে এসে ঠেকেছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তথ্যমতে, দেশটির রিজার্ভ শেষবার গত ২০১৯ সালের ১৮ই জানুয়ারি রেকর্ড পরিমাণ ৬.৬৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে দেশটির বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে মজুত থাকা নেট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে পাকিস্তানের হাতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ১২.৫৮ বিলিয়ন ডলার। যা কিনা ভারতের হাতে থাকা ৫৫১.২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ অপেক্ষা প্রায় ৪৮ গুণ কম। তাছাড়া দেশটির তাদের হাতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিয়ে মাত্র ৪৫ দিনের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব নয়।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ভারতের কাছে। চলতি ২০২২ সালের ২রা ডিসেম্বরের হিসেব অনুযায়ী ভারতের কাছে ৫৬১.২ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার বিশাল মজুত রয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্যমতে, চলতি ২০২২ সালের নভেম্বর মাস শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৩.৭৯ বিলিয়ন ডলার। যদিও ‘আইএমএফ’ এর সূত্রমতে বাংলাদেশের প্রকৃত ব্যবহার যোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ২৭ বিলিয়ন ডলার।

আবার শ্রীলঙ্কার ২ বিলিয়ন ডলার, নেপালের ১০ বিলিয়ন ডলার এবং ভুটানের কাছে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। তবে বিশ্বের মধ্যে একক কোন দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে রেড জায়ান্ট চীনের কাছে। ২০২২ সালের নভেম্বর মাস শেষে চীনের ভান্ডারে ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ ছিল ৩,১১৭ বিলিয়ন ডলার বা ৩.১২ ট্রিলিয়ন ডলার।