সিরাজুর রহমান, নাটোরঃ আমেরিকার প্রথম সারির নিউজ এজেন্সি ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের দেয়া তথ্যমতে, মার্কিন প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনকে এবার একেবারেই ফ্রীতে এমকিউ-৯ রিপার এট্যাক ড্রোন (ইউসিএভি) দেবার প্রস্তাব দিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন ড্রোন এভিয়েশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি ‘জেনারেল এটোমিক্স এ্যারোন্যাটিক্যাল সিস্টেম’ কিন্তু এ জন্য ইউক্রেনের কাছে মাত্র ১ ডলারের প্রতীক মূল্যে ২টি এই জাতীয় কমব্যাট ড্রোন সরবরাহ করতে চায়।

তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো যে, আমেরিকার ‘জেনারেল অটোমিক্স’ কোম্পানি জানিয়েছে যে, ইউক্রেনকে মাত্র ১ ডলারে ২টি হাইলী এডভান্স এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট ড্রোন ১ পেতে হলে প্রথমেই চুক্তি মোতাবেক তা আমেরিকা থেকে নিয়ে আসতে ও সম্পূর্ণ কমব্যাট অবস্থায় রেডি করতে খরচ করতে হবে ১০ মিলিয়ন ডলার। আবার তার সাথে এগুলোকে একটি নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত রিপিয়ার এন্ড মেইনিটেনেন্স করতে আরো ৮ মিলিয়ন ডলার ইউক্রেনকে আবশ্যিকভাবে পরিশোধ করতে হবে।

আমেরিকার এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট ড্রোন ঠিক আসলে কতটা ভয়ঙ্কর সারা বিশ্ব কিন্তু বেশ ভালো করেই জানে। ১,৭০০ কেজি পেলোড সক্ষমতার এমকিউ-৯ রিপার (এইসিএভি) কমব্যাট ড্রোনটি প্রথম সার্ভিসে আসে ২০০৭ সালের এবং এটিকে কিন্তু একেবারে নিখুঁতভাবে (একক ব্যক্তি হলেও) টার্গেটে হীট করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি একেবারেই চালকবিহীন তবে ল্যান্ড স্টেশন থেকে এটিকে দুইজন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা হয়।

এর ম্যাক্সিমাম স্পীড ৩০০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা এবং এর রেঞ্জ ১,৯০০ কিলোমিটার। এটি কিন্তু সম্পূর্ণ লোডেড অবস্থায় একটানা ১৪ ঘন্টা ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফিট উচ্চতা পর্যন্ত উড্ডয়ন করতে সক্ষম। তাছাড়া আমেরিকার ‘জেনারেল এটোমিক্স এ্যারোন্যাটিক্যাল সিস্টেম’ এ পর্যন্ত প্রায় ৩৬০টি এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট ড্রোন তৈরি করেছে এবং যার অধিকাংশ অপারেট করে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ভারতের নৌবাহিনী কিন্তু ২০২০ সাল থেকে কমপক্ষে ২টি এই জাতীয় ড্রোন লিজ নিয়ে দক্ষতার সাথে অপারেট করে যাচ্ছে।

এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট ড্রোন (ইউসিএভি) এর প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় হেলফায়ার (এজিএম-১১৪) মিসাইল। এটি হচ্ছে একেবারে স্বল্প পাল্লার ও হালকা ওজনের মিসাইল। যা কিনা বিশ্বের প্রথম কোন শতভাগ সফল একটি লেজার গাইডেড মিসাইল। এটি সর্বপ্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৪ সাল সার্ভিসে আনে। তখন থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনী বার বার আপগ্রেড করে এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন সিরিজের এই ভয়ংকর হেলফায়ার মিসাইল ব্যাবহার করে আসছে।

খুব সম্ভবত ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কাছে ইরানের আইআরজিসি বিপ্লবী বাহিনীর প্রধান কাসেমি সোলাইমানিকে মার্কিন বিমান বাহিনীর এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট ড্রোন থেকে হেলফায়ার মিসাইল হীটের মাধ্যমে হত্যা করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যদিও এই হত্যাকাণ্ডে মার্কিন প্রশাসনের আসলে যৌক্তিক কোন কারণ ছিল না। এটিকে খুব সম্ভবত কাতারের কোন এক গোপন সামরিক ঘাঁটি থেকে অপারেট করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

মুলত লকিহীড মার্টিন কর্পোরেশনের তৈরি ৪৫ কেজি ওজনের প্রতিটি হেলফায়ার মিসাইলের মূল্য আনুমানিক ২ লক্ষ ডলার। সলিড ফুয়েল রকেট ইঞ্জিন চালিত এই সর্ট রেঞ্জের মিসাইলটিকে ড্রোন, হেলিকপ্টার কিংবা নেভাল প্লটফর্ম থেকে ফায়ার করা যায়। তাছাড়া ১.৩ ম্যাক গতি সম্পন্ন হেলফায়ার সর্ট রেঞ্জের মিসাইলের সর্বোচ্চ রেঞ্জ ১১ কিলোমিটার। যুদ্ধক্ষেত্রে এটি এতটাই সফল যে এটিকে মজা করে ‘ফায়ার এণ্ড ফরগেট’ মিসাইল বলা হয়।