সীন্দবাদ ডেস্ক: শিল্প কারখানা নিয়মের মধ্য দিয়েই পরিচালনা করতে হবে। নিয়ম না মেনে কেউ শিল্পকারখানা পরিচালনা করতে পারবে না। অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।

সোমবার (৬ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গত শনিবার সীতাকুণ্ডের সীমা অক্সিজেন কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় সাত জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২৫ জন। চট্টগ্রাম জেলার ভারী ও মাঝারি শিল্পপ্রবণ এলাকায় ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের অংশ হিসেবে এ জরুরি মতবিনিময় সভা করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সীমা অক্সিজেন কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুন উদ্দিন। সভায় সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তাদের জাবাবে তিনি বলেন, ‘একটি শিল্প কারখানা পরিচালনা করতে যত ধরনের লাইসেন্স প্রয়োজন তার সবই আছে। দুর্ঘটনার দিন ৪ মার্চ বিকাল শিফটে ১৪ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কর্মরত ছিল। অক্সিজেন প্ল্যান্টটি চীন থেকে আমদানি করা। গত ২৭ বছর ধরে প্ল্যান্টটি চালানো হচ্ছে। দুইজন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ২০ বছর ধরে এই প্ল্যান্ট পরিচালনা করছেন।’

সভায় বিভিন্ন শিল্প কারখানার মালিক, শিল্প পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘গত ৪ মার্চ সীমা অক্সিজেন কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আট মাস আগে বিএম কনটেইনার ডিপোতেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সীতাকুণ্ডের প্রতি বছর দুর্ঘটনা ঘটছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনার বেশিরভাগই মানবসৃষ্ট। খুব কমই আছে প্রকৃতিগত।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘দুর্ঘটনা রোধে আমরা একটি মহাপরিকল্পনা নিতে চাই। যে পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে আমরা দুর্ঘটনা কমাতে পারব। যার মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং মালিকদের মূলধনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। সীতাকুণ্ডের পাশাপাশি কর্ণফুলী, আনোয়ারা, মিরসরাই এবং হাটহাজারী এলাকায়ও শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। এসব এলাকা নিয়েও আমরা পরিকল্পনা করবো।’