নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ১৩৫ বছর পেরিয়ে ১৩৬ বছরে পদার্পণ করলো বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিন্ড চট্টগ্রাম বন্দর
কতৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩৬তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল শহীদ মোঃ ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান।
মতবিনিময়কালে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাংবাদিকদের মাঝে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের ২০২২ সালের কার্যক্রম গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ২০২২ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩১ লাখ ৪২ হাজার টিইইউএস। জেনারেল কার্গো ওঠানামা হয়েছে ১১ কোটি ৯৬ লাখ মেঃটন। জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৪৩৬১ টি। ক্রমবর্ধমান হ্যান্ডলিং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমান ও ভবিষ্যতে কন্টেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিং নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন হেভি লিফট জেটি, বে-টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী পোর্ট এর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। মাতারবাড়ি চ্যানেলে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মিত জেটিতে ইতোমধ্যে আমরা ১২০টির অধিক জাহাজের বার্থিং সম্পন্ন করেছি এবং আজ বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ২৩০ মিঃ দীর্ঘ ও ১৩ মিটার গভীরতাসম্পন্ন ৮০ হাজার ডিডব্লিউটি-এর কয়লাবাহী মাদার ভেসেল মাতারবাড়ি কয়লা জেটিতে ভিড়ানো হবে। মাতারবাড়ি টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়াও বছরে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যে নির্মানাধীন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বে- টার্মিনাল এবং কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক প্রকল্পসমূহের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান সক্ষমতা বেড়ে যাবে প্রায় তিন থেকে চারগুণ। গত বছর এ প্রকল্পসমূহের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকালকে কেন্দ্র করে তিনি বলেন, বর্তমানে কনটেইনারবাহী জাহাজ বহির্নোঙরে আসার এক থেকে দুই দিনের মধ্যে জেটিতে ভিড়ছে। করোনার সময়ে বিশ্বব্যাপী নানান বিধি-নিষেধজারীর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় বন্দর মারাত্মক জটের কবলে পড়ে । সিঙ্গাপুর, কলম্বো, চায়না, ইউরোপের বন্দরগুলোতে ৫৭ দিন, ১০-১২ দিন এমনকি ইউএসএ তে ৫০ দিনের অধিক বার্থিং ডিলে হয়েছিল। সেই সময় চট্টগ্রাম বন্দর বিভিন্ন ধরণের অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করায় বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল।
মতবিনিময় সভার শুরুতে বন্দরের বিগত দিনের সাফল্য ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের তথ্যাদি সম্বলিত একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রদান করা হয়।
এর আগে দিবসের শুরুতে সকালে বন্দর ভবন সম্মুখস্থ চত্বরে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর বন্দর চেয়ারম্যান, বন্দর কর্তৃপক্ষের সকল সদস্য, সকল বিভাগীয় প্রধান ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বন্দর দিবসের কেক কাটেন।







