নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ফোর্সড শিপমেন্ট বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের দুই ব্যবসায়ী সংগঠন। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন (বিএসএএ) এবং বাংলাদেশ কন্টেইনার শিপিং এসোসিয়েশন (বিসিএসএ)তাদের পৃথক দুইটি পত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নিকট খালি কন্টেইনার ফোর্সড শিপমেন্ট বন্ধের অনুরোধ করেন।

এই ফোর্স শিপমেন্টের নজিরবিহীন ঘটনায় চট্টগ্রাম বন্দরের উপর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ঘটছে বলে মন্তব্য করেন সংগঠন দুইটি।

২০১৫-১৬ সালের দিকে চট্টগ্রাম বন্দর যখন কন্টেইনার জটে পর্যদস্তুর ছিলো তখনই বন্দর কতৃপক্ষ এই সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে এই খালি কন্টেইনার ফোর্স শিপমেন্টের সিস্টেম চালু করে যার ফলাফল ছিলো খুবই প্রসংশনীয়।

মূলত কন্টেইনারের মালিক হচ্ছে মেইন লাইন অপারেটর বা এমএলও। এই এমএলও’র কন্টেইনার বিদেশ থেকে পণ্য নিয়ে এসে বন্দরে খালাস হওয়ার পর বন্দরেই অপেক্ষা করে তাদের নির্দিষ্ট ফিডার সার্ভিসের জন্য যেই ফিডারের সাথে এমএলও’র চুক্তি রয়েছে। আর তাই সেই খালি কন্টেইনার সেই নির্দিষ্ট ফিডারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।যার জন্য বন্দরে খালি কন্টেইনারের অবস্থানকাল বেড়ে যায়।

তাই যখন চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট শুরু হল তখন সমস্যা সমাধানে বন্দর কতৃপক্ষ ফোর্স শিপমেন্ট চালু করে অর্থাৎ পন্য খালাসের পর খালি কন্টেইনার পরবর্তী যেকোনো জাহাজেই উঠিয়ে দেয়া হয় যে জাহাজটি এমএলও’র নির্দিষ্ট স্থানে যাবে। তখন এমএলও ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টে গিয়ে যে ফিডারে কন্টেইনার পরিবহন করেছে তার ভাড়া মিটাবে।

কিন্তু এই ভাড়া মিটাতে গিয়ে বেড়েছে নানান জটিলতা এবং খালি কন্টেইনার পরিবহনেও বেড়েছে খরচ। বিষয়টি এমএলওদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে। বিশ্বের আর কোনো বন্দরে ফোর্সড শিপমেন্ট না থাকায় তারা চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এমএলওদের পক্ষ থেকে নানাভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। তারা এই সিস্টেম বন্ধ করার জন্য শিপিং এজেন্টদের চাপ দিতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে শিপিং এজেন্টদের পক্ষ থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বরাবরে জরুরি পত্র দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। এখন বন্দরের ইয়ার্ডে কন্টেনারের ধারণক্ষমতা ৫৩ হাজার টিইইউএসের বেশি। কিন্তু বন্দরে বর্তমানে ২৫ হাজার টিইইউএসের বেশি কন্টেনার থাকে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বন্দরে খালি কন্টেনার নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই ফোর্সড শিপমেন্ট করারও প্রয়োজন নেই। এই সিস্টেম বন্ধ করা হলে বন্দরের ইমেজ বৃদ্ধি পাবে।