সাত.

এটা ছিল তাদের যৌথ চক্রান্তের অংশ। আমি রুগ্ন শিল্পটি টেকওভার করার পর তারা হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। কেননা তাঁরা তাদের অপকর্মের দায়ভার আমার ঘাড়ে চাপাতে পেরেছেন। অন্তত বছর দুই সময় উৎরে গেলেন। এই সময়টুকু পেলেই তাদের কেল্লাফতে। এই অন্তর্বর্তী সময়টুকু পেয়ে, বিভাগীয় শাস্তি তো এড়িয়েছেনই। পাশাপাশি প্রমোশন এর শিকেও ছিঁড়েছেন। আর একে আন্তরিক প্রমান করতেই মূলত পুনঃ অর্থায়নের অন্তঃসার শূণ্য শাখা ক্রেডিট কমিটি পাশ করালেন। কিভাবে বুঝলাম? কারণ এই পুনঃ অর্থায়নের প্রস্তাবনা আজোবধি আলোর মুখ দেখেনি। শাখায় এর অস্তিত্ব বহাল থাকা সম্পর্কেও যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। কারণ তারা আমাকে ব্যাংকের বিধিবদ্ধ প্যাডে শাখা ক্রেডিট কমিটির সিদ্ধান্ত দেখিয়েছিলেন বটে, তবে এটি অভ্যন্তরীণ অত্যন্ত গোপনীয় বিষয় বলে, এর কোন কপি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আমি মেনে নিলাম। এ ছাড়াও এই ক্রেডিট কমিটি করাটা আরেকটা ছল চাতুরী। কেন? পূর্ব সহকর্মী দিগের এই চাতুরতা আবিষ্কার করলেন, তাদেরই উত্তরসূরি বর্তমান মেধাবী সহকর্মী বৃন্দ। কিভাবে?

তারা বললেন প্রকল্পের পূর্ব মর্টগেজের সাথে, আপনার দাখিলকৃত নতুন মর্টগেজ, আপনার প্রপোজালের সেংশন পত্রে দেখেন, দেড় কোটি টাকা সিসি লোন সেংশন বাবদ সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করা আছে। অতএব যখনই আপনার এই পুনঃ অর্থায়নের প্রপোজাল, ব্যাংকের বোর্ড মিটিং এ উপস্হাপন করা হতো। তখনই ফাইল ফেরত আসত এ নোট দিয়ে যে, পুনঃ অর্থায়নের জন্য, পুনঃ মর্টগেজ দেয়ার যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হোক। শাখা কর্তৃপক্ষ যাতে আইন অনুযায়ী বিধিবদ্ধ ব্যবস্হা নেয়। অর্থাৎ তারা জানতেন যে, এই বিএমআরই প্রস্তাবনা একটি নিখাঁদ প্রতারণা। আমি তো স্তম্ভিত! মূর্খ মানুষ হীন স্বার্থোন্মত্ত হয়ে, অনেক নীচ জঘন্য কাজ করতে দ্বিধা করবে না। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তানকে পাঠানো হয় শিক্ষিত,সুশিক্ষিত হতে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষিত না হয়ে, এরা কতিপয় বেরিয়ে এসেছে কুশিক্ষিত, লোভী ও পাষণ্ড হয়ে।

সুতরাং ব্যাপারটা পরিস্কার হলো যে, তারা নিজেদের দায় আপনার কাঁধে চাপিয়ে ওই দুদক কমিশনার জনাব সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে ও তার বেনিফিসিয়ারীদিগকে দায়মুক্তি দিয়েছেন। পাশাপাশি আমাদের তৎকালীন শাখা কর্তৃপক্ষ, নিজেরা সাময়িক লাভবান হয়েছেন যেমন- তাদের অপকর্ম হেতু বিভাগীয় শাস্তির মুখাপেক্ষি হতে হয়নি। তদুপরি তাদের প্রমোশনও নিয়মানুযায়ী হয়েছে। এই কেলেঙ্কারী আপনার ঘাড়ে চাপাতে না পারলে, যা অসম্ভব ছিল। এই অভিনব কায়দায় নিস্কৃতি পেয়ে জনাব গোলাম ফারুক ও জনাব আব্দুস ছালাম আজাদ দু’জনই পরবর্তী কালে রাষ্ট্রায়ত্ব দু’টো ব্যাংক যথাক্রমে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক লিমিটেড এর এম.ডি হতে পেরেছিলেন।

অতএব এই লুটপাট আপনার কাঁধে চাপাতে পেরে, উভয় পক্ষ উইন উইন সিচ্যুয়েশনে, সাময়িক উত্তীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম সাময়িক কেন? তারা বললেন, আপনি ব্যাংক ও তাদের ব্যাক্তি নাম উল্লেখ পূর্বক অভিযুক্ত করে, উভয় পক্ষকে বিবাদি করে আইন-আদালতের আশ্রয় নিলে, দীর্ঘমেয়াদে তারা অবসরে গেলেও কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দায় এড়াতে পারবেন না। তাছাড়া মূলহোতা জনাব আব্দুস ছালাম আজাদ তো এখনও বহাল তবিয়তে ব্যাংকের এম ডি পদে বহাল। তা না হলে, এক্ষুনি আপনার অভিযোগের বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ তদন্ত হতো এবং বর্তমান বোর্ড আপনাকে ফাঁদে ফেলার বিষয়টি আমলে নিয়ে, এমন একটি অপ-ব্যাংকিং তৎপরতা বিবেচনায় নিয়ে, বোর্ড আপনার প্রতি ব্যাংকিং আইনের মধ্যে যতটুকু সম্ভব সুবিচার করে, ব্যবসা করার সুযোগ দিতো।

যা হোক ব্যাংকার নামক দুর্বৃত্তদের ফাঁদে পড়ে, মাত্র দুই বছর আমি রপ্তানী কার্যক্রম চালাতে পেরেছিলাম। প্রাপ্ত দুই বছর কার্যকালে প্রচুর রপ্তানী করেছি। রাষ্ট্রায়ত্ব জনতা ব্যাংক জনতা ভবন শাখা ছিল তখন-ভুয়া বিল পারচেজকারীদের স্বর্গ রাজ্য। অসৎ ব্যাংকার-গ্রাহক যোগসাজসে। ভুয়া বিল পারচেজ করে, শত শত কোটি টাকা সরকারী এই ব্যাংকের, ভাগবাটোয়ারার শতাংশ ভিত্তিক অংশীদারিত্বে বন্টন করে, ইচ্ছাকৃত ব্যাড লোন সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করিনি। আমরা বিধিবদ্ধ নিয়মানুযায়ী আমাদের কার্যক্রম চালিয়েছি। হঠাৎ একদিন আমাদের প্রধান কমার্শিয়াল কর্মকর্তা জানাল, ব্যাক টু ব্যাক এল.সি খুলছে না ব্যাংক। জনতা ব্যাংক লিমিটেড জনতা ভবন শাখার মহা-ব্যবস্হাপক জনাব শাহানুর আলম সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি কোনই ভনিতা না করে সরাসরি বললেন- উপরে যোগাযোগ করেন।

পরে অনেক অনুসন্ধানের পর জানতে পারলাম, এই উপর বলতে তিনি ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্হাপনা পরিচালক জনাব আব্দুস ছালাম আজাদকে বুঝিয়েছেন। বলে রাখা দরকার, হাত কতটা লম্বা হলে এটা সম্ভব! যার দুর্নীতির দায়ে চাকুরী চলে যায়-যায়। যাকে বিদেশ সফর শেষে, দেশে ফেরত আসা মাত্র এ্যারেস্ট করতে, এয়ারফোর্টে ডিবি পুলিশ ওঁত পেতে ছিল। যার বিরুদ্ধে দুদকের রেড এলার্ট জারি। তিনি টের পেয়ে সুচতুরতার সহিত ঝানু গোয়েন্দাদের কাউকে ঘোল খাইয়ে, কাউকে ঘুষ খাইয়ে- পগারপার ! যে দেবতার যে ভোগ, তা দিতে এমনিতেই তিনি সিদ্ধ হস্ত। এই করেই তিনি পাড়ি দিয়েছেন এতোটা পথ। অত:পর এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি হাইকোর্ট। পেলেন সাময়িক দায়মুক্তি। সময়ান্তরে তা পূর্ণাঙ্গ দায়মুক্তিতে ঠেকে।

এক্ষেত্রে জনাব আব্দুস ছালাম আজাদকে সহযোগীতা করেন ভুয়া বিল পারচেজকারী চক্রের পান্ডা জনাব সালাউদ্দিন হিতাকাঙ্খী রূপে। বাস্তবতা হলো ভিন্ন। জনাব আব্দুস ছালাম আজাদ তা দেরিতে বুঝতে পেরে এখন বিদেশে পলাতক তার হিতাকাঙ্খী জনাব সালাউদ্দিন এর বিরুদ্ধেই দুদকে নিজে সাধু সাজতে প্রতিবেদন দিয়েছেন। সহসাই হয়তো জনাব সালাউদ্দিন এর বিরুদ্ধে পরস্পর (ব্যাংকার-গ্রাহক-দুদক) ত্রিপক্ষীয় পাতানো মামলা হবে। জনাব সালাউদ্দিনকে বুঝাবেন আপনি দেশে যখন আর ফিরবেনই না তবে মামলা করলে কি ক্ষতি? অতএব জনাব সালাউদ্দিন সম্মতি দিলেন। জনাব আব্দুস ছালাম আজাদ দুদকের সাথে দফারফা করে নিজ দায় মোছনে। দুদক কর্মকর্তাদের লেনদেনে খুশী করে, সম্মতি সাপেক্ষে জনাব সালাউদ্দিন এর বিরুদ্ধে, দুদকে অভিযোগ দিলেন। অভিযোগ গৃহীত হলো। জনাব আব্দুস ছালাম আজাদ ব্যাংক অন্তঃপ্রাণ এম.ডি হিশেবে চতুর্দিকে রটে গেলো। ব্যাস।

সময় পরিক্রমায় এহেন চরম কুচক্রী, আজ হয়ে বসলেন রাষ্ট্রায়ত্ব জনতা ব্যাংক লিমিটেড এর দন্ডমুন্ডের কর্তা- এম.ডি। তার প্রভাব কতোটা তা জানান দিতে ব্যাংকের এক কালীন চেয়ারম্যান জনাব জামাল উদ্দিনকে তিনি কুটকৌশল খাটিয়ে, ব্যাংক ছাড়া করেছেন বলে সর্ব মহলে চাউর আছে। এ ছাড়াও যে অপকর্মটা তার সব অপকর্মকে ছাড়িয়ে গেছে তা হলো, রাষ্ট্রায়ত্ব এই ব্যাংকটির হাজার হাজার কোটি টাকার ভাগ বাটোয়ারার ভিত্তিতে ব্যাড লোন প্রদানের মূল হোতা এই জনাব আব্দুস ছালাম আজাদ। এই ধারা আজোবধি দুর্বার গতিতে ধাবমান। ছোট বেলায় আমরা দল বেঁধে স্কুলে খেলতে খেলতে, আনমনে ছড়া কাটতাম “ডালিম পাকিলে নিজে ফেটে যায়, ছোট লোক বড় হলে বুক ফেটে যায়”। তখন না বুঝলেও এখন বুঝি এর মানে কী!

বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারলাম আমাদের ব্যাক টু ব্যাক এলসি বন্ধ হবার কারণ হল- উক্ত দুদক কমিশনার জনাব সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। যেদিন দুদকে জনাব সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এর কমিশনারের মেয়াদ ফুরালো ঠিক সেদিনই ডানে বাঁয়ে না তাকিয়ে জনাব আব্দুস ছালাম আজাদ আমাদের ব্যাক টু ব্যাক এলসি বন্ধের নির্দেশ দিলেন। কেন? জনাব আব্দুস ছালাম আজাদ এর চাওয়া ছিল- স্হায়ী ভাবে তাকে দুদক এর অভিযোগ থেকে নিস্কৃতি দেওয়া। কিন্তু দুদক কমিশনার জনাব সাহাবুদ্দিন চুপ্পু প্রজেক্ট লোন সেংশনের ঝুঁকি নেওয়ার পরও, জনাব আব্দুস ছালাম আজাদকে দিয়েছিলেন সাময়িক নিস্কৃতি। এখানেই উভয়ের বিরোধ।”পাটা পুতার ঘষাঘষি মরিচের মরন”!

আমাদের বক্তব্য হল, এই দুদক কমিশনারের সাথে তো আমাদের কোনই সংশ্লিষ্টতা নেই।আমরা তো বরং দুদক কমিশনারের সংশ্লিষ্ট পূর্ব ম্যানেজমেন্টের লুটতরাজের দায়ভার, নিজ প্রয়োজনে স্বেচ্ছায় নিজ কাঁধে নিয়েছি। অন্যদিকে, প্রতিশ্রুত পুনঃ অর্থায়ন না করে এমনিতেই চরম সঙ্কটে নিপতিত করেছেন। তদুপরি চলমান একটি টপ বটম সেট ক্রয়াদেশ এর আট কনটেইনার পণ্যের মধ্যে, টপ পার্ট টি শার্ট এর ব্যাক টু ব্যাক এলসি খুলে, উপরের নির্দেশে তৎকালীন শাখা মহা ব্যাবস্হাপক জনাব শাহানুর, বটম পার্ট এর চার কনটেইনার পণ্যের ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলা থেকে বিরত থাকেন। জিজ্ঞেস করলে তার সাফ কথা “আমি জনতা ব্যাংককে বাঁচাবো, গ্রাহককে নয়”।

বিষয়টি শাখার তৎকালীন এক্সপোর্ট ইনচার্জ জনাব আব্দুল হক ও ইমপোর্ট ইনচার্জ জনাব আব্দুল মজিদ সাহেবকে আমরা অবহিত করলে, তারাও উভয়েই জনাব শাহানুর সাহেবকে বোঝান যে, যদি বটম পার্টের ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলা বন্ধ করা হয়, টপ পার্টের পণ্য গুলো সম্পূর্ণ স্টকলট হয়ে যাবে। তাতে করে গ্রাহকের পাশাপাশি ব্যাংকও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনাব শাহানুর আমাদের কিংবা তার অভিজ্ঞ ব্যাংক কর্মকর্তা কারোর কথাই আমলে না নিয়ে এই পুরো ক্রয়াদেশ এর স্টকলট ঘটিয়ে, আর এফ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রীজ লিমিটেড এর বড় অংকের নতুন কৃত্রিম দায় সৃষ্টি করলেন।

অবশ্য কয়েক মাসের মাথাতেই এই আপাদমস্তক দুর্ণীতিপরায়ন জনতা ব্যাংক অন্তঃপ্রাণ জনাব শাহানুর, দুর্নীতির আকর ব্যাবস্হাপনা পরিচালক জনাব আব্দুস ছালাম আজাদ এর ইশারাতেই, উভয়ের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে টানাপড়েনে পড়ে, দুর্নীতির দায়ে জনাব শাহানুর আলম ব্যাংক ব্যাবস্হাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সকল ব্যাংকিং সু্যোগ সুবিধা বিহীন বরখাস্ত হন বটে। মাঝে থেকে অপূরণীয় ক্ষতি সাধন হয়ে গেল,আর এফ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রীজ লিমিটেড নামক একটি উঠতি রপ্তানিমুখি গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের। কেন আমাদেরকে অন্যায়ভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করা হল? দ্রুতবেগে চলা ব্যবসার গতি রোধ করা হল? এর কোনো উত্তর আমাদের কেন কারোরই জানা নেই।

একটা খোঁড়া যুক্তি তিনি দাঁড় করাবার চেষ্টা করলেন যে, আমাদের ঋণের কিস্তি বকেয়া পড়েছে। এই অচলাবস্থার উদ্ভব যে হতে পারে, সে আশংকা তো আমরা পূর্বেই প্রকাশ করেছিলাম। বার বার বলেছিলাম- আমরা আমাদের কথা রেখেছি। অর্থাৎ নতুন করে জমি মর্টগেজ দিয়েছি। ডাউন পেমেন্টের নগদ অর্থ জমা প্রদান করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি সাপেক্ষে প্রদেয় নির্ধারিত কম্প্রমাইজিং এমাউন্টের টাকাও পরিশোধ করেছি। অর্থাৎ সর্বমোট চার কোটি টাকা ব্যাংককে প্রদান করেছি। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পরিপালন করেছি। এখন আপনারা আপনাদের পুনঃ অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন। প্রকল্পের ব্যাপক ধ্বস ঠেকাতে পুনঃঅর্থায়ন করুন।

আট.
কে শোনে কার কথা। “সরকারিকা মাল,দরিয়ামে ঢাল”। এমন একটা ভাব আরকি! কাজের সময় এইসব সরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তারা চলেন সরকারী মর্জিতে, বেতন নেওয়ার সময় বেসরকারী ব্যাংকের সমান অংশ দাবি করে। বলে বেড়ায়, আমরা কি বেসরকারী ব্যাংকের চেয়ে কাজ কম করি? অথচ বিদেশি কিংবা বেসরকারী ব্যাংক হলে আমাদের আর এফ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রীজ লিমিটেড এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ থাকার কথা না। কেন?

আমাদের তখন পর্যন্ত:
ক) আপাতঃ নতুন মেশিন।
খ) কমপ্লায়েন্স মানের ভবন সমেত গ্রীণ ফ্যাক্টরী এরিয়া।
গ) ভাল এবং বড় আমেরিকান বায়ার।
ঘ) দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মিবৃন্দ।
এক কথায় একটা অত্যাধুনিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর জন্য যা যা অতীব প্রয়োজন তার সবই বিদ্যমান।

সুতরাং এ রকম একটি সম্ভবনাময় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী অবহেলিত হয়ে, অনুৎপাদনশীল পড়ে থাকতে পারে না। পণ্য উৎপাদন করে একে দায় মুক্ত করা ও আয় যুক্ত করা সম্ভব। অর্থাৎ আয় থেকে দায় পরিশোধ করে আর এফ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রীজ লিমিটেডকে প্রথমত, স্হান বিবেচনায় একটি মডেল ফ্যাক্টরী হিসেবে এবং দ্বিতীয়ত কর্মী ও কর্ম পরিবেশ বিবেচনায় লাভ জনক ফ্যাক্টরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তা তারা করলেন না। করলেন কি? করলেন অর্থঋণ আদালতে মামলা।

কম্প্লায়েন্স মানের ফ্যাক্টরী ভবন, গার্মেন্টস সেক্টর বান্ধব এরিয়া, সহজলভ্য কর্মী প্রাপ্তি- যেহেতু আমাদের হাতে বিপুল ক্রয়াদেশ, সেহেতু প্রায় সাতাশ কোটি টাকা দায়-দেনা থাকার পরও সম্ভাবনাময় বিবেচনায়, আমরা এই রুগ্ন শিল্পটি টেকওভার করেছিলাম। প্রয়োজনে ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ দিবে। দায় আদায়ের নিমিত্তে ও তাদের মুনাফা নিশ্চিত করণে- এটুকুই যথেষ্ট। সুতরাং বিদেশি ব্যাংক কেন, আমাদের দেশের বেসরকারী খাতের ব্যাংক শুনলেও চোখ কপালে তুলবে: “মামলা করেছেন? মামলা কোনই সমাধান না”।

মামলা করবে, মামলায় লড়বে- মামলাবাজরা। আমরা ব্যবসায়ী, আপনারা ব্যাংকার। আপনারা আমরা মামলা মোকদ্দমা কোর্টকাচারী করার লোক না। মাঝখান থেকে সুবিধা ভোগীরা ফায়দা লুটবে-এটা ব্যাংকারগণ বুঝেন। আমরা ব্যবসায়ীরাও বুঝি। বুঝি বলেই সহজে ওপথ কেউই পারতপক্ষে মাড়াতে চাই না। মামলা হলো- অগত্যার গতি। অর্থাৎ যখন আর কিছুতেই কিছু হচ্ছে না, বছরের পর বছর তাগাদা দিয়েও আর কোন ফল পাওয়ার সম্ভাবনা যখন থাকে না, তখনই কেবল মামলা করার কথা ভাবা হয়। অথচ আমাদের বেলায় ব্যাংকের পরিকল্পিত রুগ্ন শিল্পটি টেকওভারের, তিন বছরের মাথায় মামলা করা হল। আমাদেরই বিরুদ্ধে! সম্ভবত বাংলাদেশের ব্যাংকিং জগতে ইহাই সর্বাধিক দ্রুতগতির মামলা এবং স্বল্প সময়ের ব্যবধান বিচারেও।

এটা কিভাবে সম্ভব? ব্যাংকিং নিয়ম কানুনের মধ্যে পড়ে? সম্ভবও না, পড়েও না। তাহলে কেন, কি উদ্দেশ্যে এই স্বেচ্ছাচার? এর কোন ব্যাখ্যা আমি অন্তত তন্ন তন্ন করেও খুঁজে পাইনি। নিছক এক খাম খেয়ালিপনার কারণে- জনাব গোলাম ফারুক এবং জনাব আব্দুস ছালাম আজাদ এদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির আওতায় আনাটা কি ফরজ নয়? ভবিষ্যতে এমন কুলাঙ্গার, শিল্পের শত্রু নির্মূল করার স্বার্থে। ব্যাংকার সমাজের কলঙ্ক মোচনার্থে।

আমি প্রজেক্ট টেকওভার করার পর পরই তখনকার শাখার এডভান্সের ম্যানেজার এস,পি,ও জনাব গোলাম আজম আচমকা একদিন আমাকে বললেন- “মামলা করুম”। আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। বলে কি! তারপর টেকওভারের তিন বছর যেতে না যেতে, ঠিকই মামলা করলো। তাহলে ধরে নেয়া যায়, মামলা করার এই প্রক্রিয়া পূর্ব পরিকল্পিত। ঘটনাক্রম থেকেই বোঝা যায়। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা কালীন সময়ে, এই জনাব গোলাম আজম পদোন্নতি পেয়ে এ,জি,এম। জনতা ভবন শাখার-ই। জনাব আব্দুস ছালাম আজাদ এই শাখায় মহা-ব্যবস্হাপক থাকা কালীন সময়ে, তার সকল অপকর্ম চক্রের আরেক- নাটা এই জনাব গোলাম আজম।

এরা অর্থাৎ এই জনাব গোলাম ফারুক ও জনাব আব্দুস ছালাম চক্র হলো অসৎ ব্যাংকার, অর্থ লোভী গ্যাং। এদের অপকর্মের তালিকা অতি দীর্ঘ, লোমহর্ষক। কি যে এক বিভীষিকার রাজত্ব কায়েম করেছে রাষ্ট্রায়ত্ব জনতা ব্যাংক লিমিটেডে ! তা নিজ চোখে না দেখলে, নিজ কানে না শুনলে, কোন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে তা, অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

কাকের মাংস কাকে খায় না- বলেই জানতাম। কিন্তু আমি নিজ চোখে দেখেছি কী নির্মমভাবে, এরা এদের সগোত্রীয় নীরিহ ব্যাংকার, যারা এই দুষ্ট চক্রের অন্যায় আদেশ পরিপালন করতে, সবিনয়ে অপারগতা প্রকাশ করেছে। তাদের জীবনকে, তাদের পরিবারকে কিভাবে তচনছ করে দিয়েছে! নিজে আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ। অথচ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার জিরো টলারেন্স প্রমাণ করতে, উল্টো সীমিত সংখ্যক সৎ ব্যাংকারদেরকেই ঠুনকো অজুহাতে সাসপেন্সন, মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়েছেন। এমনকি পটভূমিকা তৈরী করে, জেলেও প্রেরণ করেছেন- পুরুষ,নারী নির্বিশেষে।

তারপরও এই ভুক্তভোগীগণ জনাব আব্দুস ছালাম আজাদ এর প্রিয় বড় বাঘাইড় মাছ, দেশী ডজন-ডজন মুরগি হরহামেশা তার আলিশান বাড়িতে, নিজে বয়ে পৌঁছে দেন। তার একটু করুণা লাভের আশায়। যারা দীর্ঘদিনের নিজ সহকর্মীদেরকে পথে নামাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না। তারা নব পরিচিত একজন গ্রাহকের উপর, সকল অপকর্মের দায়ভার অবলীলায় চাপিয়ে দেয়াটাই স্বাভাবিক। ভালো গ্রাহক ও সৎ ব্যাংকার- উভয়ের মাথার উপর পা রেখে, দুর্নীতিবাজ গ্রাহক ও অসৎ ব্যাংকার চক্রের হাত ধরে, নিজে উপরে উঠার সিঁড়ি তৈরী করবে। এই অর্বাচীনদের পক্ষে এটা নিতান্তই মামুলি ব্যাপার।

“ডাকাতদের গ্রাম”

শতাব্দীর পর শতাব্দী কেটেছে সময় আমাদের,
ডাকাতের শঙ্কায় থেকে থেকে।
কখনো হার্মাদ,কখনো বর্গী নানান নামে
নামতো ডাকাত,হানা দিতো লোকালয়ে।

আধুনিক সময়ে এসে শঙ্কা অনেকটাই
কেটেছে বটে।কিন্তু ডাকাত ছাড়েনি পিছু।

ডাকাত পাল্টিয়েছে রূপমাত্র,পাল্টায়নি আর কিছু।
সিরাজের সময়ে জগৎশেঠ-একা। একাই এক’শ।

রবীন্দ্রনাথের যুগে কাবুলিওয়ালা হয়ে
ছড়িয়ে পড়েছে দিকে দিকে।

আর এখন?

মতিঝিল আর গুলশান- পুরো দু’টো গ্রাম,
বাংলা মটরের মময়মনসিংহ রোড ধরে পুরো একটি
পাড়া, মহাখালী-বনানীর একাংশ চলে গেছে ডাকাতদের দখলে।
ওদিকে যেওনা।ওগুলো ডাকাতদের গ্রাম।

(চলবে….)