সিরাজুর রহমান, নাটোরঃ গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগোর কোনাশেনকোভ মস্কোতে জানান যে, গত ২০২২ সালে ২৪শে ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরুর পর এখনো পর্যন্ত রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের ৩৮৫টি বিমান, ২০৯টি হেলিকপ্টার, ৩,১৫২ সামরিক যান, ৪০৪টি বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ৭,৮৯১টি ট্যাংক ও আর্টিলারি সিস্টেম ধ্বংস করেছে। অথচ ইউক্রেন সামরিক বাহিনীর কাছে কখনোই এত বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ছিল না। আবার এ যুদ্ধে রাশিয়ার ঠিক কতগুলো যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য সামরিক সাজ সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে তার কোন তথ্য উপাত্ত রাশিয়ার সরকারের তরফে কখনও প্রকাশ করা হয় নি। তাছাড়া এ যুদ্ধে রাশিয়ার ঠিক কতজন সেনা হতাহত হয়েছেন তা নিয়ে এক অনুমান করা ছাড়া বাস্তব তথ্য জানার কোনই সুযোগ আপাতত নেই। তবে এ যুদ্ধ রাশিয়ার জন্য কতটুকু লাভজনক হলো তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বানিজ্যের এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত নতুন করে আমেরিকা একাই প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের অধিক প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির অর্ডার পেয়েছে। আর এখন ইউক্রেনকে যে অস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে তা যুদ্ধ শেষে সুদে আসলে আদায় করে ছাড়বে তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ থাকে না। তবে উইকীপিডিয়ার দেয়া তথ্যমতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে এ পর্যন্ত মোট প্রায় ২০৬টি যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য সামরিক পরিবহন বিমান ধ্বংস হয়েছে কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে রাশিয়ার সবচেয়ে এডভান্স এসইউ-৩৪ মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে ১৯টি। তাছাড়া অতি ভয়ঙ্কর এসইউ-৩০ যুদ্ধবিমান ১১টি, এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান ২টি, এসইউ-২৪ ১০টি এবং ২০টি এসইউ-২৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে এই ধ্বংসের তালিকায়। এদিকে রাশিয়ার অত্যাধুনিক কেমভ কে-৫২ এ্যাটাক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে ২৪টি।

তার পাশাপাশি এমআই-২৮ হেলিকপ্টার ৬টি এবং এমআই-৩৫/২৪ কমব্যাট হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে মোট প্রায় ১০টি। তবে বাস্তবে এই পরিসংখ্যানটি আরো বেশি সংখ্যক হলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তার সাথে হাজার হাজার ট্যাংক,আর্টিলারি সিস্টেম, সামরিক যান, এস-৩০০/৪০০, প্যান্টাসির এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। যার প্রকৃত সংখ্যা যৌক্তিক কারণেই অনেকটা কম বা বেশি হতে পারে।

এদিকে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, ইউক্রেন দখলের জন্য রাশিয়া এক বছর ধরে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে গেলেও আজ অব্ধি ইউক্রেনের আকাশে বড় ধরণের প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। অথচ রাশিয়ার বিমান বাহিনীতে প্রায় ৪,০০০টি বা এর কাছাকাছি যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, হেভি বোম্বার বিমান ছিল বা রয়েছে। তবে তা কিন্তু আকাশ যুদ্ধে রাশিয়ার জন্য বড় ধরণের কোন সাফল্য এনে দিতে পারছে না। এখন প্রচলিত অস্ত্রের যুদ্ধ সক্ষমতার দূর্বলতা আড়াল করতে রাশিয়া কিনা বিভিন্ন দেশের উপর বার বার নিউক্লিয়ার অস্ত্র প্রয়োগ বা ব্যবহারের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। শেষমেশ কিনা স্টকে থাকা সভিয়েত আমলের ক্রুজ এন্ড ব্যালেস্টিক মিসাইল ও তার পাশাপাশি ইরানের কাছ থেকে হাজারের অধিক কামিকাজে সুসাইডাল এন্ড কমব্যাট ড্রোন ও মিসাইল কিনে নিয়ে এসে কোন রকমে যুদ্ধের হাল ধরে রেখেছে। যা কিনা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শক্তিশালী সামরিক সুপার পাওয়ার দেশ হিসেবে নিজেকে বিশ্বের সামনে অযোগ্য প্রতিয়মান করেছে। এই হলো রাশিয়ার বর্তমান সামরিক সক্ষমতার চূড়ান্ত নমুনা। আজ হোক কিংবা কাল এই যুদ্ধ থেমে গেলেও রাশিয়া কিন্তু তার বৈশ্বিক অস্ত্র বানিজ্যের বাজার হারাবে। তার সাথে অর্থনৈতিক সংকটের মুখ থেকে বেড়িয়ে আসতে আরো এক দশক লেগে যেতে পারে।