হারুন অর রশিদ মজুমদারঃ নিন্দনীয় আর কে? হা-মীম গ্রুপের কর্ণধার এ কে আজাদ যিনি প্রকাশ্য বিজিএমইএ এর মিটিংয়ে নি:সংশয়ে বলেন, “ভাইরে গায়ের এই ব্লেজারটা সেল থেকে কিনেছি ১৫০ ডলারে”। তিনিও কর্মসংস্হান করেছেন অর্ধ লক্ষাধিক জন শক্তির। তাঁর নামও তথাকথিত গুড বুকে নেই। যে দেশে দুষ্টের দমন,শিষ্টের লালন না হয়,যে সমাজে গুণীর কদর হয় না,সে সমাজে গুণী জন্মায়না। কাপড় চোপড়ের প্রসঙ্গ সামনে আনলাম এ কারণে যে,ছোট খাট সুক্ষ বিষয়াদি দিয়ে ব্যক্তির রুচিবোধ, দর্শন, জীবনবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রভূত বিষয়াদির তুল্য মূল্য চুলচেরা না হলেও আপাত ধারণা হয়।
মুদ্রার অন্যপিঠে তথাকথিত গুডবুকে যাদের নাম,তাঁদের নিত্য নতুন দামী টাই, হরেক দিন হরেক স্যুট, ব্র্যান্ডের জুতোর কড়কড়-মচমচ, পান্জাবীর বাহার, টুপির জৌলুস, চকচকে আচকান। পাঠকের, বুদ্ধিদীপ্ত জনতার, বিবেচকের চোখের ভাষায় যাতে পঠিতব্য হয়। কাহার গন্তব্য কাহাসে? মন্তব্য নিস্প্রয়োজন হেতু। যিনি তথাকথিত ঝণ খেলাপি,তিনি ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করেছেন। অর্থাৎ নিজের তরল অর্থ,সাথে নিজ স্হাবর সম্পত্তি,ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নিয়ে, শিল্প স্হাপন করেছেন,অতএব ব্যাংক নিরাপদ। বন্ধকি সম্পত্তির মূল্যমান ঝণের বহুগুণ বেশি। তদ্রুপ স্হাপনা ও মেশিনারীজ এর মূল্যমানও প্রচুর,কাজেই ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। শিল্প উদ্যোক্তা ঘুমিয়ে পড়লেও সুদ ঘুমায় না। সুদ বাড়ে দিনে রাতে। সরকারী ব্যাংক মাঝে মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়,তার জন্য ঝণ গ্রহীতা নয়া,দায়ী আমরা ও মামুরা। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। তাই ঝণ খেলাপ হলেও ব্যাংকের কোন ঝুঁকি নেই। ঝুঁকি তো শিল্প উদ্যোক্তার। এই ঝুঁকি না নিয়ে,তিনি তো অন্য অনেকের মতো ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, খুলসী, নিউ ইয়র্ক, সিডনি, অটোয়ায় বিলাস বহুল অট্রালিকা বিনির্মাণ করে, সংসারী মানুষের মত,সুখে সম্ভোগে “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” টাইপের আয়েসী জীবন যাপন করতে পারতেন। তা তিনি করলেন না। নিজের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করলেন- শিল্পে। নিজের সাথে দেশের অর্থনৈতিক অবস্হার পরিবর্তন, উৎকর্ষ সাধনের সংকল্প নিয়ে অভিযাত্রা। এই অভিলাষে বিন্দু মাত্রও কুলষতা, শুরুতে ছিল না নির্দ্বিধায় বলা চলে। যদিবা ছিঁটে ফোঁটা চাঁদের কলঙ্ক,সেটা পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্হিতিতে গড্ডালিকা প্রবাহ মাত্র। এর জন্যও দায়ী ব্যাংক। কোন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় অর্থ যথা সময়ে সরবরাহ,ব্যাংকের ধাতে নেই। তারা বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় করান তারিয়ে-তারিয়ে। প্রধানত এ কারণে,অন্যবিধ কারণেও যে কোন সময়,যে কোন পরিস্হিতিতে,শিল্প মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। যদি কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠান,এমত ধরণের পরিস্হিতিতির মুখামুখি না হয়, এটা সৌভাগ্য। যাদের উপর দুর্ভাগ্য ভর করেছে,তাদের পুনরোত্থানে করণীয় কি? তাঁদের সি.আই.বি ব্লক করে দেয়াটাই কি বাংলাদেশ ব্যাংক এর একমাত্র দায়িত্ব? নাকি দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক? আমি মনে করি,বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারের কাজ তো এখান থেকেই শুরু। তারা নিবিড়ভাবে,তথাকথিত খেলাপি ঝণ ও খেলাপী প্রতিষ্ঠানকে পর্যবেক্ষণে রাখবেন। রাখবেন এই কারণে যে,কারখানা যখন চালু ছিল তখন,তারা অত্র শিল্পের প্রতিষ্ঠায়,কোনই অবদান না রেখেই,এই শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে টেক্স, ভ্যাট, রাজস্ব পেয়েছেন। রাজ কোষাগার সমৃদ্ধ হয়েছে। কর্মীগণ অত্র প্রতিষ্ঠানের অর্থে,সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করেছেন। ব্যাংক সুদ নামক লভ্যাংশ পেয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান রুগ্ন বা বন্ধ,তাই বলে শুধুই কি খেলাপী গ্রহিতা ক্ষতিগ্রস্ত? ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। তাই প্রয়োজন বোধে বিনিয়োগের পরিমান বিবেচনায়,সরকারী ব্যাংকের এসপিও থেকে জিএম পর্যন্ত। বেসরকারী ব্যাংকের এভিপি থেকে ইভিপি পর্যন্ত। এই সম মানের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে হলেও শিল্প প্রতিষ্ঠান চলবে। মাথা ব্যাথা? মাথা কেটে ফেলা সমাধান নয়। মূর্খতার চরম। সাম্প্রতিক উদাহরণ,ই-ভ্যালী। একটা ট্রেডিং হাউজ। এটা প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সচল রাখা হল। অথচ লক্ষাধিক শ্রমিকের জীবন জীবিকা উপেক্ষিত। বাংলাদেশের কেন উপ-মহাদেশের খ্যাতিমান রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী,এই বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রতিভাবান শিল্পপতি,আনিসুর রহমান সিনহা। তাঁর মালিকানাধীন এশিয়ার সর্ব বৃহৎ পোষাক শিল্প কারখানা,ওপেক্স সিনহা টেক্সটাইল। সে সুযোগ পেলো না। পত্র-পত্রিকায় ঘোষণা দিয়ে অচল হলো। সর্বত্র পিন পতন নীরবতা। কোত্থাও উহ্ শব্দটি পর্যন্ত নেই। যেন সুখবর ! নিরবে বন্ধ হয়ে গেল চিরতরে। সারা বিশ্বের সকল নামী দামী পোষাক ব্র্যান্ডের সূতিকাগার। বিশ্বের তৈরী পোষাক শিল্পের ব্র্যান্ড ওপেক্স গ্রুপ। ইউরোপ আমেরিকায় শুধু নয় জাপান, কোরিয়ায়ও এমত ঘটনায় রীতি মত তোলপাড় হয়ে যেত। অথচ আমাদের অর্থনীতি এতটাই শক্তিশালী যে,এহ বাহ্য! মনোবৃত্তি নিয়ে। আমরা নির্বিকার!! যেন,ও কিছু না। আশ্চর্য ! (চলবে)







