সিরাজুর রহমান, নাটোরঃ তুরস্ক সাম্প্রতিক সময়ে বায়রাক্তার কিজিলএলমা (Kızılelma) অটোনমাস কমব্যাট ড্রোনের সফল ২য় উড্ডয়ন ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবতরণ পরীক্ষা সম্পন্ন করে এক অবিশ্বাস্য স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। মূলত এটি একটি কমব্যাট ড্রোন বলে মনে করা হলেও বাস্তবে কিন্তু এটি একেবারে চালকবিহীন লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফটের ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
এটি শুধু তুরস্কের জন্য এক মাইলফলক অর্জন নয় বরং সারা মুসলিম বিশ্বের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে তুরস্ক গত ২০২২ সালের ১৪ই ডিসেম্বর এর প্রথম সফল ফ্লাইট টেস্ট সম্পন্ন করে এবং ব্যাপক মাত্রায় গবেষণার জন্য এ পর্যন্ত মোট ২টি প্রোটোটাইপ কপি তৈরি করেছে ‘বায়কার’। তুরস্কের ড্রোন এভিয়েশন জায়ান্ট ‘বায়কার’ কোম্পানির তৈরি বায়রাক্তার কিজিলএলমা (KiZiLELma) অটোনমাস কমব্যাট ড্রোন বা এয়ারক্রাফট হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম কোন আফটার টার্বোফ্যান জেট ইঞ্জিন চালিত সুপারসনিক গতির আনমেনড কমব্যাট এয়ারক্রাফট সিস্টেম। এটিকে মূলত একেবারে পাইলট বিহীন জেট ফাইটারের মতো কমব্যাট মিশন পরিচালনা করার বিশেষ উপযোগী করে ডিজাইন করা হয়েছে। তাছাড়া তুরস্কের নৌবাহিনী এটি অদূর ভবিষ্যতে তাদের প্রথম মিনি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ‘টিসিজি আনাদুলু’ থেকে অপারেট করবে।
তুরস্ক আসলে তাদের ডেডিকেটেড কমব্যাট ড্রোন কিজিলএলমা (KiZiLELma) প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করেছিল আজ থেকে প্রায় এক দশক আগেই। তবে ফুল স্কেলে সার্ভিসে আসতে তুরস্ককে আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এই নতুন কনসেপ্টের আনমেনড কমব্যাট এরিয়াল সিয়স্টেমটি যতটা সম্ভব আরসিএস কমিয়ে বা স্টেলথ প্রযুক্তি সম্পন্ন করেই সার্ভিসে আনতে ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে ‘বায়কার’। এর গতি ও শক্তি যোগানোর জন্য আপাতত ইউক্রেনের তৈরি AI-322F আফটার টার্বোফ্যান জেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে। তবে এর বিকল্প হিসেবে অদূর ভবিষ্যতে তুরস্কের ‘তুসাস’ বা TUSAŞ Engine Industries (TEI) এর তৈরি অত্যন্ত শক্তিশালী টিএফ-৬০০০ আফটার টার্বোফ্যান জেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে। এর দৈর্ঘ্য ১৪.৭ মিটার, উইন্সপেন ১০ মিটার এবং উচ্চতা ৩.৩ মিটার। এর ম্যাক্সিমাম টেকঅফ ওয়েট ৬ হাজার কেজি। এর অপারেশনাল কমব্যাট রেঞ্জ হবে ৯৩০ কিলোমিটার। তাছাড়া এর ম্যাক্সিমাম স্পীড ৯০০ কিলোমিটার এবং ক্রুইজ স্পীড হচ্ছে ৭৫০ কিলোমিটার পার আওয়ার। এটি ভূমি থেকে ৩৯ হাজারের অধিক ফিট উচ্চতায় উড্ডয়ন করে একাধারে ৫ ঘন্টা কমব্যাট মিশন পরিচালনা করতে সক্ষম বলে জানিয়েছে এর উৎপাদনকারী কোম্পানি।
এভিয়নিক্স সিস্টেম হিসেবে এটিতে তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি অত্যাধুনিক (এইএসএ) রাডারের পাশাপাশি এ্যাসেলসাল কোম্পানিত তৈরি এপারচার টার্গেটিং সিস্টেম, ইলেক্ট্রনিক্স ওয়ারফার পড এবং ন্যাশনাল (এসআইজিআইএনটি) মডিউল ইনস্টল করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে সার্ভিসে আসার পরবর্তী সময়ে আরো নতুন নতুন বেশকিছু ফিচার ইনস্টল করতে পারে ‘বায়কার’ কোম্পানি। তাছাড়া ভবিষ্যতে এয়ার টু এয়ার যুদ্ধ বা ডগ ফাইটের জন্য নিজস্ব প্রযুক্তির এয়ার টু এয়ার (বিভিআর) মিসাইল ইনস্টল করবে তুরস্ক। এক্টিভ ইলেক্ট্রনিক্যালী স্ক্যান্ড এ্যারী (এইএসএ) রাডার সমৃদ্ধ এই আনমেনড কমব্যাট এয়ারক্রাফটের ম্যাক্সিমাম পেলোড ক্যাপাসিটি ১,৫০০ কেজি বা ১.৫ টন। এটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ফিট উচ্চতায় একটানা ৬ ঘন্টা পর্যন্ত কমব্যাট মিশন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছে তুর্কী ‘বায়কার’ কোম্পানি। এর দুটি ইন্টারনাল এবং ৬টি এক্সটার্নাল হাড পয়েন্টে বিভিন্ন সিরিজের মিসাইল, স্ট্যান্ড অফ মিসাইল (এসওএম), এয়ার টু এয়ার (বিভিআর) মিসাইলসহ গাইডেড এন্ড আনগাইডেড বম্বস ইনস্টল করা সম্ভব।
তুরস্ক অদূর ভবিষ্যতে গ্রাউন্ড এ্যাটাক, ক্লোজড এয়ার সাপোর্ট, এন্টিশীপ মিসাইল স্টাইক এবং মেরিটাইম কমব্যাট অপারেশন দক্ষতার সাথে পরিচালনা করার জন্য নতুন প্রজন্মের চালকবিহীন এই এডভান্স লাইট ফাইটার জেটকে বিশেষভাবে ডিজাইন করছে। এটিতে বর্তমানে যে প্রযুক্তি ইনস্টল করা হয়েছে তার শতভাগ কিন্তু তুরস্কের নিজের প্রযুক্তি। যা কিনা অদূর ভবিষ্যতে তুরস্কের বিমান ও নৌবাহিনীর বাহিনীর যুদ্ধবিমান স্বল্পতার একটি বিকল্প উন্নত ব্যবস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।







