নয়.
আমাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া ফ্যাক্টরীগুলোর প্রতিটির আছে এমনি এক একটি করে উপাখ্যান। আর প্রতিটি উপখ্যানে আছে এমনি চমকপ্রদ সব তত্ব এবং পিলে চমকানো তথ্য। আর এই সকল তত্ব ও তথ্যের তলে চাপা পড়ে আছে কত যে শিল্প উদ্যোক্তার দীর্ঘশ্বাস আহাজারী আর হাহাকার !
বিজিএমই-এর প্রতিটি ইট এর সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। যদিও বিজিএমইএ এর সেই ভবন এখন ধুলিস্যাৎ। সেই অযোধ্যাও নেই, সেই রামও নেই। নতুন ভবন শুরু হবে। হবে শুরু আরেক নতুন অধ্যায়ের। নতুন অযোধ্যার অবধারিত।
উপরের ঘটনাবলী আলোচনা, পর্যালোচনা,পর্যবেক্ষণ করে আপনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবেন যে, আমরা যাদেরকে তথাকথিত ঝণ খেলাপি বলি, এই বলাটা কতুটুকু যৌক্তিক? এই ঝণ খেলাপ হওয়ার পেছনে ব্যাক্তির দায় কতটুকু? কতটুকু ব্যাংকের? কতটুকু ব্যাংকারের? কতটুকু প্রশাসনের? কতটুকু পারিপার্শ্বিকতার?
সেই হিসাব অংক কষে মেলাতে গেলে উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে অভিযোগের পাল্লা ভারী হবে ব্যাংক, ব্যাংকার, প্রশাসন, পারিপার্শ্বিকতা- এই চতর্ভূজের দিকে। অভিযোগের আঙ্গুল ব্যাংকার, ব্যাংক- এই উভয়ের দিকেই নির্দেশিত হবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। সরল রেখার, জটিল দুই প্রান্ত। (তৃতীয় পর্বে বিস্তারিত বর্ণিত)
বাংলাদেশে একজনও ঋণ খেলাপী নেই। বাংলাদেশে আছে সুদ খাদক। বাংলাদেশে আছে ঘুষ খাদক। ঝণ খেলাপীর যে শোরগোল তা কেন? তা একারণে যে, তাঁদের হাতে কলম নেই। তাঁদের বাতচিতে উচ্চ স্বর নেই। নিরীহ শিল্প উদ্যোক্তা মাত্র কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। যে কারণে যত দোষ, নন্দ ঘোষ প্রতিষ্ঠিত। ঋণ খেলাপী’র কারণে আজতক বাংলাদেশে একটিও ব্যাংক দেউলিয়া হয়েছে ? হয়নি। কারণ এক শুভঙ্করের ফাঁক। শুভঙ্করের ফাঁকটা কি?
যাচাই করুন যে পরিমান বিনিয়োগ ব্যাংক করেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নানান চার্জ দৈনিক কেটে,সুদ কেটে, আসল কেটে,ত্রৈমাসিক কিস্তি কেটে,তাঁদের পকেট ইতোমধ্যে ভরাট করেছে। অন্যদিকে পুরো জামানতের নথি তাদের করতলে। এখন কিসের দাবি তুলছে? সুদ এর সুদ, তস্য সুদ এর। এ কারণেই আজতক কোনই ব্যাংক দেউলিয়া হয়নি। বরং আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে।
নমুনা। গোটা বাংলাদেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ আজও, দু’মুঠো, মোটা চালের ভাত, রোজ দুটো মোটা কাপড় বছরে মিললেই খুশি। সেখানে অধিকাংশ ব্যাংক মোটা কার্ডবোর্ড দিয়ে বর্ণিল ব্যায়ে বহুল ডিজাইনে মোটা অংকের ক্যালেন্ডার ছাপায়। কেন? বার্ষিক অফুরন্ত বাজেটের অর্থ যথেচ্ছ পূর্ণাঙ্গ ব্যয়ের নিমিত্ত। ইহা কোন গল্প নয়। বাস্তব। কত্তো আয় রে ! এমত দৃষ্টান্ত অজস্র। মূলত: সুদ আর ঘুষ এই দ্বিমাত্রিক কারণেই গোটা বাংলাদেশ দেউলিয়া না হলেও, দ্বার প্রান্তে।
সুদ এবং ঘুষ এই দু’য়েরই প্রবণতা বিদেশমুখি। বিদেশে ৬থেকে১২ লক্ষ কোটির অধিক টাকা,এই উভয় চক্র মিলে-মিশে পাচার করেছে। এদের অপকর্ম যদি রোধ করা যেত,৬থেকে১২ লক্ষ কোটি টাকা দেশে থাকলে, বাংলাদেশের বর্তমান হত হিরন্ময়। পরিস্কার। বাংলাদেশের জন্য কারা বিষফোঁড় ? স্পষ্ট। এই দুষ্টক্ষত দ্বিচক্র,মেধাবী কলমের খোঁচায়,ঋণ খেলাপ প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। কাঁটা দিয়ে, কাঁটা তুলতে হয়। তুলবো।
সুদ খাদক এবং ঘুষ খাদক,এই দু’য়ের মাঝেও আবার একটি বৈষম্য রয়ে গেছে। এই দু’ পক্ষের মধ্যেও একটি স্নায়ু দ্বন্দ্ব বিরাজমান,পর্দার অন্তরালে। স্নায়ু দ্বন্দ্বটা কিসের? টেক্সের। সুদ খাদক গণ,যতই সামান্য হোক প্রত্যক্ষ টেক্স দেন। ঘুষ খাদকগণ নিজেরাই আইনের প্রয়োগ করতে গিয়ে,নিজেদের অর্জিত ঘুষকে,টেক্স বহির্ভূত রেখেছেন। আমাদের প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ গণ,এই স্নায়ু দ্বন্দ্ব মেটাতে ঘুষকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে।
তার উপর, অপ্রত্যক্ষ টেক্স তথা ভ্যাট প্রথা প্রয়োগ করুন, সংসদে আইন প্রণয়ন করে। ঘুষ ঠেকানো যাচ্ছে না বিধায়।পরিমানও অল্পস্বল্প নয়,লক্ষ কোটি টাকা। যেহেতু প্রতিভাবান প্রতিজন রাজনীতিবিদই বিষয়টি ওয়াকিবহাল। মেধাবী আমলাগণ এতই সন্তর্পণে,তারে-তারে লেনদেন সমাপন করেন যে,তা গোচরে আনা অসম্ভব। তবে প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ মহল,সম্যক অবগত বিধায়,এই প্রস্তাবনা। উভয় প্রতারক চক্রের স্নায়ু দ্বন্দের অবসান হলো। রাষ্ট্রীয় কোষাগার সমৃদ্ধ হলো। মন্দের ভালো।
বেক্সিমকো। সমগ্র বাংলাদেশে ঋণ খেলাপী বলে চাউর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাননীয় বেসরকারী খাত বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সালমান এফ রহমান। যার পরনের পান্জাবী সর্বোচ্চ দু’হাজার টাকা। পায়জামা সর্বোচ্চ আট’শ টাকা। পান্প সু জোড়া সর্বোচ্চ চার হাজার টাকা। পান, সিগারেটে পর্যন্ত বিমুখ। কর্ম সংস্থান করেছেন,প্রায় লক্ষাধিক জন শক্তির। পন্চাশ বছর যাবত ব্যবসা করে তিনি নিন্দনীয়।
তিনি শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারীর হোতা। কারা বলেন? এই সুদ আর ঘুষ খাদক গণ। তাদের এজেন্ট লেঁজুড়ের মাধ্যমে, কলমের আঁচড়ে। শেয়ার বাজার রাষ্ট্র স্বীকৃত ব্যবসাক্ষেত্র। বেক্সিমকো আর দশ জনের মত ব্যবসা করেছে। তাঁদের বিনিয়োগ বেশি। ব্যবসা বেশি করেছেন। এই যা। সে ব্যবসার টাকা কোথায় গিয়েছে? সুদ খাদকদের, ঝণ পরিশোধে। ঘুষ খাদকদের যাদুর বাক্সে। বৃহদাংশ শিল্পে পুন: বিনিয়োগে। এক পয়সাও পাচার হয়নি।
অন্যদিকে ব্যাংকের কাছে, ব্যাংকারের কাছে,বন্দনীয় কারা? আচমকা রাতারাতি নয় নয়টা ব্যাংকের মালিক বনে যাওয়া, পন্চাশ বছর দূর কি বাত। এক দশক আগেও এই ব্যাংক হাইজেকার এন্ড গং ছিল নাম গোত্রহীন। এখন পাওয়ার হাউজ থেকে ক্ষমতার, মিডিয়ার পাওয়ার নেই কি? ব্যাংকের গুড বুকে। আর কার নাম? যার পান্জাবীর মূল্য, পঁচিশ লক্ষ টাকা। জাতীয় দৈনিকের খবর। তৈরী হয় লক্ষ্ণৌতে, থাকেন রাজ প্রসাদে। বাংলাদেশের ভূমি দস্যুদের সর্দার। এরা বন্দনীয়। সাঁঝের পর বিষধর মনসা দেবীর নাম মুখে আনতে নেই। দিবালোকেও আনলাম না। (চলবে…)







